ডেস্ক রিপোর্ট

৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৫০ অপরাহ্ণ

ম্রো জনগণের ওপর হামলার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ৭, ২০২৩ ১০:৫০ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: পাহাড়ের প্রথাগত ভূমি অধিকার নিশ্চিত কর, লামায় রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক ম্রো জাতিগোষ্ঠীর বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরে জড়িতদের গ্রেফতার করা, ফেলানীসহ সীমান্তে সকল হত্যাকান্ডের বিচার ও কেন্দ্র ঘোষিত ১৩ দফা দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, চট্টগ্রামের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল আজ বিকেল ৪টায় নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সহ-সভাপতি রিপা মজুমদার। বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল জেলা আহ্বায়ক এ্যানি চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নগর শাখার সভাপতি মিরাজ উদ্দিন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অমিত চাকমা, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী জেলা আহ্বায়ক আবিদ ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জেলা আহ্বায়ক জুয়েল মজুমদার, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন জেলা আহ্বায়ক সাইফুর রূদ্র এবং সভা সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রীতম বড়ুয়া।

সভায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান নির্যাতনের নতুন মাত্রা যোগ করল লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রি। ১৯৯৬ সালের চুক্তির ভিত্তিতে বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরই ইউনিয়নের ম্রো জনগোষ্ঠীকে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য কোনো ধরনের অপচেষ্টাই বাকি রাখছে না। চুক্তি অনুসারে বন্দোবস্ত প্রাপ্ত ১৬০০ একর জায়গায় ৫ বছরের মধ্যে বাগান করার কথা থাকলেও এক যুগ পর বাগান করার নামে ৩০০০ একর ভুমি ইতোমধ্যে দখল করে স্থানীয় ম্রো এবং ত্রিপুরা জাতির বসবাস এবং চাষের ভুমি আগুনে পুড়িয়ে উচ্ছেদের লক্ষ্যে দখলের জন্য ক্রমাগত নিপীড়ন চালাচ্ছে। সর্বশেষ ২রা জানুয়ারী জুম এবং ফলের বাগানে আগুন লাগায় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রির ভাড়াটে গুন্ডারা। তাদের একমাত্র পানির উৎসে চিংড়ি শিকারের নামে কীটনাশক প্রয়োগ করে। এই নেক্কারজনক আক্রমণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভুমিকার তীব্র সমালোচনা করেন বক্তারা।

ফেলানী হত্যার ১২বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সীমান্ত হত্যার হার কমানো যায়নি। নিয়মিত বিরতিতে হত্যার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ভারত এবং বাংলাদেশে বিচারের নামে প্রহসনের ফলে কোন বিচার আজও পায়নি ফেলানির পরিবার। বছর বছর ভারত সফরের সীমান্ত হত্যা কমানোর কোন চুক্তি বা বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণ পায়নি। ভারতের সাথে নতজানু পররাষ্ট্র নীতি বর্জন করে সীমান্ত হত্যা সহ বাংলাদেশের ন্যয্য অধিকার আদায় করে নেওয়ার দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল আন্দরকিল্লা মোড় থেকে প্রেস ক্লাব এসে শেষ হয়।

 

 

শেয়ার করুন