ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার আহবান

আপডেট টাইম : নভেম্বর ২৯, ২০২২ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি:: ফ্যাসিবাদী দু:শাসন-দুর্নীতি-মূল্যবৃদ্ধি ও লুটপাটের রাজনীতির বিপরীতে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারের পদত্যাগ, দল নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন ও চাল-ডাল-তেল-চিনি-আটাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো, গ্রাম শহরে রেশন চালু করার দাবিতে-বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্র ঘোষিত জেলায় জেলায় সমাবেশ কর্মসূচীর অংশহিসাবে বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে ২৮ নভেম্বর ২০২২ সোমবার বিকাল: ৩:০০ টায় বগুড়া সাতমাথায় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের বগুড়া জেলা সমন্বয়ক, বাসদ বগুড়া জেলা আহŸায়ক কমরেড অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, বক্তব্য রাখেবেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, সিপিবি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য কমরেড সফিউর রহমান শফি,বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিষ্ট লীগ কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ আব্দর সাত্তার, বাসদ(মাকর্সবাদী) কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ সদস্য কমরেড নিলূফা ইয়াসমিন শিল্পী, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড আমিনুল ফরিদ, বাসদ জেলা সদস্য সচিব দিলরুবা নূরী প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

সভা সঞ্চালনা করেন সিপিবি নেতা শাহনেওয়াজ কবির খান পাপ্পু।

কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান আমলের ২২পরিবারের হাত থেকে মুক্তি পেলেও দেশ আজ ২২০০ পরিবারের হাতে বন্দী। রাস্ট্রীয় মাফিয়া ও রাস্তার মাফিয়ারা আজ দেশে চালাচ্ছে। শাসকগোষ্ঠী তাদের রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ শাসক গোষ্ঠীর কাছে উপেক্ষিত। তাইতো ২০/২৫ হাজার টাকার জন্য দেশকে বাঁচিয়ে রাখা কৃষককে জেলে যেতে হয়, আর লক্ষ কোটি টাকা পাচারকারীরা ডিআইপি মর্যাদায় চলাফেরা করে। তিনি পাচারের টাকা ও খেলাপি ঋণ উদ্ধার ও এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং শাস্তির দাবি জানান। এবং দূর্নীতি দু:শাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন আজ লুন্ঠিত হয়ে গেছে। এসব লুন্ঠনকারী ও যে চলমান নীতিতে এরা লুটপাট করছে তার অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশ পরিচালনা করতে হবে। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, নতুন করে আবার প্রহসনের নির্বাচন করতে চাইছে। দেশে এটা প্রমান হয়ে গেছে দলীয় সরকারের অধীনে ভালো নির্বাচন হবে না। তাই নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন আদায়ের সংগ্রাম জোরদার করতে হবে। দূর্নীতি, ফ্যাসিবাদী দু:শাসন রুখে দাঁড়াঁতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার প্রশাসন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে এর থেকে উত্তরণ ঘটানো যেত। তিনি কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রকৃত কৃষককে প্রনদোনা দেওয়া, ক্ষেতমজুরদের সারাবছর কাজের নিশ্চয়তার দাবি করেন। তিনি শ্রমিকদের কাজের নিশ্চয়তা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানান। তিনি বলেন দেশের জাতীয় আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে পারলে সকল মানুষের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান নিশ্চিত করা যাবে। বামপন্থীরা ক্ষমতায় গেলে এই কাজটি করবে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা,ল্যাটিন আমেরিকাসহ সারা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যাবে, পুঁজিবাদী পথে সমস্যার সমাধানে ওরা ব্যার্থ হচ্ছে। ওদের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এসব দেশের সাধারণ মানুষ আজ লাল পতাকা ও সমাজতন্ত্রের পথকে সমর্থন করছে। আমাদের দেশেকেও মুক্তিযুদ্ধের অংগীকার গনতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রে পথে অগ্রসর করতে হবে। এজন্য নীতিনীষ্ঠ রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

কমরেড সফিউর রহমান শফি বলেন, “স্বাধীনতার ৫১ বছরে পুঁজিবাদী শোষণ, বৈষম্য আর দুঃশাসন জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। একদিকে জিডিপি আর মাথাপিছু আয়ের গল্প, উন্নয়নের নামে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, দেশ থেকে টাকা পাচার, বৈদেশিক ঋণ নিয়ে মেগা প্রকল্প, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ অন্যদিকে শ্রমিক কৃষক, মধ্যবিত্তের দুর্দশা, দ্রব্যমুল্যের উর্ধধগতি, জ্বালানী তেল-বিদুৎ এর মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা চিকিৎসার খরচ বৃদ্ধি, নারীর নিরাপত্তাহীনতা সমান তালেই বাড়ছে। কখনও করোনার অজুহাত, কখনও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ব্যবসায়ী তোষণ নীতি ও দুর্নীতিকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাফল্য, রিজার্ভ নিয়ে এত বাগাড়ম্বরের পর দেখা যাচ্ছে লোড শেডিং আর ডলার ঘাটতি। জনগণের চোখে ধুলা দিয়ে অথবা কৃত্রিম সাফল্য প্রচার করে লুটপাটের ক্ষতি আড়াল করা যায় না। আইএমএফ এর কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার জন্য অসম শর্তে রাজি হওয়ার আগে প্রতিবছর ৭০০ কোটি ডলার পাচার বন্ধ করা উচিত ছিল। একদিকে অর্থনৈতিক লুটপাট অন্যদিকে রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদী আক্রমণ চালাচ্ছে সরকার। গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার সব আজ কেড়ে নেয়া হচ্ছে। কখনো বিনা ভোটে, কখনো রাত্রিকালীন ভোটে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আস্থাহীন করে ফেলা হয়েছে। তিনি বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকে তীব্রতর করার পাশাপাশি দলীয় সরকারের অধীনে নয় দল নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অন্যন্য নেতৃবৃন্দ বলেন, বগুড়া এখন খুনের নগরিতে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন খুনের খবর শুনতে শুনতে বগুড়ায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলে কিছু আছে তা বগুড়াবাসী ভুলেই গিয়েছে। বগুড়া যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। শহরের বুকে রেল লাইনের কারণে দিনে ১৯ বার ট্রেন চলাচলের সময় ১০ মিনিট করে ধরলে ৩ ঘন্টা ১০ মিনিট শহর থমকে দাঁড়াই। রাস্তা ছোট আর সাতমাথা কেন্দ্রীক মার্কেট বেড়েই চলছে। ফুটপথ বড় ব্যবসায়ীদের দখলে। হকারদের পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা নেই। আর যানজটের নিরসনের নামে বরাবর খড়গ নেমে আসে ব্যটারি চালিত যানবাহনের উপর। অথচ এই মানুষদের জন্য জেলার প্রশাসন-পৌর প্রশাসন কেউই কর্মস্থান সৃষ্টি করতে পারেন নি। দখল-দুষণে করতোয়া নদী আজ মৃত। উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী আজও অপূরীত। তাই এই সকল সংকট নিরসএবংতাই কৃষি পান্যের নায্য মূল্য নিশ্চত করা কৃষি উপকরনে দাম কমানো, গ্রাম শহরে গরীব মানুষের জন্য্ আর্মি রেটে রেশন, বিদ্যুতের লোডশেডিং বন্ধসহ কর্মহীনদের কর্ম সংস্থানের দাবিতে বগুড়াবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন