ডেস্ক রিপোর্ট

১৮ নভেম্বর ২০২২, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

‘গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে গণজাগরণ তৈরির আহবান’

আপডেট টাইম : নভেম্বর ১৮, ২০২২ ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: আওয়ামীলীগ সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাসদ (মার্কসবাদী)-র কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা। শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) চট্রগ্রামে বাসদ (মার্কসবাদী)-র সমাবেশে তিনি এই দাবি করে গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে গণজাগরণ তৈরির আহবান জানান।

“স্বাধীনতার ৫১ বছর পর পুঁজিবাদী শোষণে সাধারণ জনগণের জীবন আজ বিপর্যস্ত।দ্রব্যমূল্যসহ সমস্ত কিছুর মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ কোনমতে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।বিগত ১৪ বছরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে।গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন-পীড়ন করছে। গুম,খুন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা অব্যাহত আছে।‘উন্নয়ন’এর স্লোগানের আড়ালে দেশকে মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর লুটপাট, দূর্নীতি, অর্থপাচার, জনগণের সম্পদ দখলের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে। দুটি জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় এটা স্পষ্ট,আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে বিশ্বাসযোগ্য কোন নির্বাচন সম্ভব নয়। বিগত ১৪ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে অতিষ্ঠ জনগণের মধ্যে আওয়ামীলীগের কোন জনসমর্থন নেই। একারণে আওয়ামীলীগ ইভিএম সহ নানা কারচুপির মাধ্যমে যেনতেনভাবে আবারো ক্ষমতা দখল করতে চায়,যা দেশকে আরো গভীর সংকটে নিপতিত করবে।এ কারণে আওয়ামীলীগ সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।একইসাথে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন,নির্বাচনে কালো টাকা,পেশীশক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার নিষিদ্ধ,সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচনব্যবস্থা সাজানো,সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ অগণতান্ত্রিক বিধি বাতিল করার দাবিতে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’’

আজ নগরীতে বাসদ(মার্কসবাদী)-র সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নিঅবাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা এ বক্তব্য রাখেন।রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বার্ষিকী ও বাসদ(মার্কসবাদী)-র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১৮ নভেম্বর, বিকাল ৩ টায় নগরীর পুরাতন স্টেশন চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।বাসদ(মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা আহবায়ক কমরেড মানস নন্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাসদ(মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা,জেলা সদস্য আসমা আক্তার।সমাবেশ পরিচালনা করেন দলের জেলা সদস্যসচিব শফি উদ্দিন কবির আবিদ।

কমরেড মাসুদ রানা আইএমএফের কাছে সরকারের হাত পাতার সমালোচনা করে বলেন, ”লুটপাট,দূর্নীতি,ব্যাংক লোপাট,অর্থপাচারের ফলে আজ সরকারের তহবিল খালি।এ অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে পুঁজিপতিগোষ্ঠীকে বাঁচাতে সরকার আইএমএফ এর কাছে হাত পাতছে। সরকার আইএমএফ এর কাছে ঋণ চেয়েছে ৪২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।অথচ গত দশ বছরে দেশের বাইরে টাকা পাচার হয়েছে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। আইএমএফের ঋণের পরিবর্তে গ্যাস-বিদ্যুৎ-সারসহ জনগণের বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানো,১০ টি রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাকে বেসরকারীকরণের শর্ত দেশের অর্থনীতি,শিল্প-কৃষি ও জনজীবনকে দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের কালো গহ্বরে নিক্ষেপ করবে।কালো টাকা ও খেলাপী ঋণ উদ্ধার,পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা,দূর্নীতি ও অপ্রোয়জনীয় প্রকল্প বন্ধ করলে আইএমএফের কাছে হাত পাতার প্রয়োজন হতোনা।“

কমরেড মাসুদ রানা বলেন,‘‘আজ থেকে ১০৫ বছর আগে মহামতি লেনিন ও বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এক দশকের মধ্যেই রাশিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিল শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম্য, বেকারত্ব, অনাহার, দারিদ্র্য, অশিক্ষা, পতিতাবৃত্তি। জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন, সামাজিক অপরাধ সমাজ থেকে নির্মূল করে সকল জাতি সম্প্রদায় ও ভাষার গণতান্ত্রিক অধিকার ও বিকাশ ঘটেয়েছিল সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া। কিন্তু স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বের সংশোধনবাদী বিচ্যুতির ফলে সমাজতন্ত্রের অভ্যন্তরে পুঁজিবাদের প্রভাব বেড়ে একসময় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটে।কিন্তু আজ পুঁজিবাদী বিশ্বে ভয়াবহ বৈসম্য,দারিদ্র মন্দা, বেকারত্ব, ছাঁটাই, যুদ্ধ, পরিবেশ ধ্বংস সমাজতন্ত্রের অপরিহার্যতা নতুন করে হাজির করেছে।বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। ফলে শুধু আপাত সুষ্ঠু নির্বাচন ও ক্ষমতার পালাবদল জনগণের মুক্তি দিতে পারবেনা। এজন্য প্রয়োজন এদেশে শোষনমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। তাই আজ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকে শোষণমূলক রাষ্ট্যব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত করার জন্য চাই গণজাগরণ।“

শেয়ার করুন