ডেস্ক রিপোর্ট

১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

চা শ্রমিকদের কর্মবিরতির সময়ের মজুরি ও রেশন প্রদানের দাবি

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ১, ২০২২ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: চা শ্রমিকদের ১৯ দিন কর্মবিরতি পালনের পর শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও কর্মবিরতিকালীন সময়ের মজুরি ও রেশন থেকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিকালে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটিরভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুরুজ আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো: ছাদেক মিয়া এই অভিযোগ করে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতিকালীন সময়ের মজুরি ও রেশন প্রদানের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন দীর্ঘ ১৯ দিনের লাগাতার কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ, রাজপথ-রেলপথ অবরোধের মতো কঠিন সংগ্রামের পর প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণের পর ২৯শে আগস্ট থেকে সারা দেশের চা শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ৯ই আগস্ট থেকে চা শ্রমিকরা দৈনিক ৩শ’ টাকা মজুরির দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছিলেন। দেশের ১৬৭টি চা-বাগানে ৫ লক্ষাধিক চা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থায়ী শ্রমিক প্রায় ১ লাখ। সেই হিসেবে একজন শ্রমিকের মজুরির উপর কমপক্ষে ৫ জনকে ভরণপোষণ করতে হয়। বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে ৩শ’ টাকা মজুরি পেলেও তো সেটা সম্ভব না। তারপরও শ্রমিকরা ১৭০ টাকা মজুরিতে বাধ্য হয়েই কাজে যোগদান করেন কিন্তু এখন শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও রেশন প্রদান করা হচ্ছে না। এ ছাড়া ২০২১-২০২২ সাল মেয়াদের জন্য মজুরি ১৭০ টাকা হিসেবে বর্ধিত ৫০ টাকা (১৭০-১২০ টাকা) মজুরির এরিয়ার টাকা দ্রুত পরিশোধ করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিবার নির্ধারিত সময়ের পর শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করে স্থায়ী শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি এরিয়ার হিসেবে প্রদান করা হলেও প্রায় ৩০ হাজার ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের এরিয়ার (জনপ্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা) টাকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা সাধারণত চা উৎপাদনের মৌসুমে ৪/৫ মাস কাজ স্থায়ী শ্রমিকের সমান কাজ করেন। কিন্তু মালিকপক্ষ ক্যাজুলায় শ্রমিকদের রেশন, আবাসন, চিকিৎসা ইত্যাদি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন। যেহেতু মালিকদের টালবাহনা ও সময়ক্ষেপণের কৌশলের কারণে নির্ধারিত সময়ের পর (প্রায় ২০ মাস) মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে তাই ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের এরিয়ার টাকা পরিশোধ করতে হবে। নেতৃবৃন্দ ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের এরিয়ার টাকাসহ রেশন, আবাসন, চিকিৎসা ইত্যাদি সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে শ্রমিকদের প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকাও যাতে যথাযথভাবে জমা হয় সে ব্যাপারে প্রফিডেন্ট ফান্ড অফিস ও শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তদারকি করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে নেতৃবৃন্দ আগামী জানুয়ারিতে নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য যাতে চা শ্রমিকদের আবারো রাজপথে নামতে না হয় সে ব্যাপারে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং চা-শিল্পে নৈমিত্তিক ছুটি(বছরে ১০ দিন) কার্যকর ও অর্জিত ছুটি প্রদানে বৈষম্যসহ শ্রমআইনের বৈষম্য নিরসন করে গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মজুরি ও উৎসব বোনাস প্রদানে সকল অনিয়ম বন্ধ করে শ্রমআইন মোতাবেক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান এবং ৯০ দিন কাজ করলেই সকল শ্রমিককে স্থায়ী করার দাবি জানান।

শেয়ার করুন