ডেস্ক রিপোর্ট

২৫ আগস্ট ২০২২, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

‘সমমর্যাদা ও সম অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন’

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৫, ২০২২ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: ‘বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সমমর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন, লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রুখে দাঁড়ান, চা শ্রমিকদের ৩০০ টাকা মজুরী চাই‘ এই দাবিগুলিকে সামনে রেখে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে প্রতিবাদী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২৪ আগস্ট বিকাল ৪টায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়।

সীমা দত্তের সভাপতিত্বে এবং নওশীন মুস্তারি সাথীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইয়াসমিন হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম নেতা এডভোকেট সুলতানা আক্তার রুবি, লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা, সংগঠনের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক নাঈমা খালেদ মনিকা।

কর্মসুচির সাথে সংহতি প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের নেতা শবনম হাফিজ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমিনকে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের জন্ম দিয়েছে। সেদিন ধর্ষণকারী পুলিশ সদস্যরা ইয়াসমিনকে পতিতা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দুর্বার প্রতিরোধ আন্দোলন বাধ্য করেছিল ফৌজদারী মামলায় পুলিশের বিচার করতে। দীর্ঘ ২ বছর সারাদেশের নারী সমাজসহ দিনাজপুরবাসীর অপ্রতিরোধ্য গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৩ পুলিশ সদস্যের ফাঁসির রায় প্রকাশ এবং ২০০৪ সালে তা কার্যকর হয়।”

এডভোকেট সুলতানা আক্তার রুবি বলেন, “নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের ইতিহাস ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ইতিহাস। সেদিন ইয়াসমিন হত্যা এবং পুলিশ কর্তৃক মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলো তার উপর ভিত্তি করেই বাম প্রগতিশীল নারী সংগঠনসহ সকল শ্রেণী পেশার নারী ও পুরুষের সম্মিলিত ও লাগাতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস সৃষ্টি হয়েছিলো। পুলিশ, প্রশাসন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদিন মানুষের মনোবল আর তেজ দেখে ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। তারা বাধ্য হয়েছিলো ফৌজদারী মামলায় পুলিশের বিচার করতে এবং ধর্ষক পুলিশদের ফাঁসী দিতে। দীর্ঘ ২৭ বছর পর আজও আমরা দেখছি নারীর শত লাঞ্ছনা, নির্মম নির্যাতন। অপরাধীদের রক্ষা করছে সরকারের নানা প্রশাসন। অপরাধ ঢাকতে তৈরী করছে নানা কালো আইন। বিভিন্ন প্রোগ্রামে মন্ত্রীদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যই প্রমাণ করে তারা চায় দেশে চরম দৈন্যদশা বজায় থাকুক। ফলে আজ সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হলে এর বিরুদ্ধে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

বক্তারা আরো বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ঈগল বাসে যাত্রীদের সামনে ডাকাত কর্তৃক গণধর্ষণ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুর সাথে হাঁটতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার, নরসিংদীতে রেল স্টেশনে পোষাকের কারণে এক নারীকে লাঞ্ছনা, স্বামীকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে স্ত্রীকে গণধর্ষণ এমনি হাজারো ঘটনা যার অনেক কিছু আমাদের গোচরেও আসেনা, এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে এদেশ সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের বাসের অযোগ্য। শাসকগোষ্ঠী অপরাধীদেরই রক্ষক। আমাদের সন্তানেরা এখানে হয় অন্যায়কারী না হয় কাপুরুষ হয়ে বেঁচে থাকবে। নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা, নির্যাতন বন্ধ করতে হলে, আমাদের সন্তানদের অগ্নিযুগের সাহসী সৈনিক হিসাবে গড়ে তুলতে চাইলে, আসুন সবাই মিলে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই। নারী নির্যাতন বিরোধী সকল আন্দোলনকে বৈষম্য ও দমনমূলক সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত করি।”

নারী আন্দোলনের কর্মীদের অংশগ্রহণে প্রতিবাদী গান, কবিতা, নাটক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সমাবেশের কাজ সমাপ্ত করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল কাঁটাবনের দিকে যাত্রা শুরু করলে পুলিশী বাঁধার সম্মুখীন হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ বাকবিতন্ডা শেষে পুলিশী বাঁধা অতিক্রম করে মিছিল কাঁটাবন ঘুরে জাদুঘরের সামনে এসে সমাপ্ত করা হয়।

শেয়ার করুন