ডেস্ক রিপোর্ট

২২ আগস্ট ২০২২, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

‘চা শ্রমিকদের তো উচিত ছিল ৫৫০ টাকা করবার দাবী’

আপডেট টাইম : আগস্ট ২২, ২০২২ ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

কল্লোল মোস্তফা ::

“বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অক্টোবর ২০২০ এর সার্কুলার অনুসারে দেশের জেলা উপজেলায় দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করা একজন দক্ষ শ্রমিকের মজুরি হবে সর্বনিম্ন ৫৫০ টাকা। অথচ চা শ্রমিকদের মজুরি ১২০ টাকা থাকবে না ১৪৫ টাকা হবে তা নিয়ে শ্রমিক নেতাদের সাথে দরকষাকষি করছে সরকার এবং বাগান মালিকপক্ষ! চা শ্রমিকদের তো উচিত ছিল ৩০০ টাকার বদলে দৈনিক মজুরি সরকারের ঘোষিতে রেটের সমপরিমাণ ৫৫০ করবার দাবী তোলা!

তাহলে বাগান মালিকরা যে দাবী করেন তারা টাকার হিসেবে দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি দিলেও অন্যান্য আরো যেসব সুবিধা প্রদান করেন, সেগুলোর আর্থিক মূল্য দাড়ায় প্রায় ৪০৩ টাকা- তার কি হবে? চলুন যাচাই করে দেখা যাক বাগান মালিকরা কোন কোন সুবিধাকে মজুরির হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চান এবং বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুসারে সেগুলোকে আসলেই মজুরির হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা।

চা বাগান মালিকরা যেসব সুবিধাকে মজুরি হিসেবে দেখাতে চান তার মধ্যে রয়েছে- রেশন, বাসস্থান, চিকিৎসা সুবিধা, পেনশন, শ্রমিক সন্তানের শিক্ষা, শ্রমিক কল্যাণ কর্মসূচী (যেমন: পানি সরবরাহ, মশার ওষুধ স্প্রে, পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা, গামছা সরবরাহ ইত্যাদি), শ্রমিকদের বসতির আশাপাশে উৎপাদিত ফলমূল, শাকসবজির মূল্য, বাড়তি উত্তোলণের বোনাস, ভবিষ্য তহবিলের চাদা ইত্যাদি।

কিন্তু বাগান মালিকরা এইসব সুবিধাকে মজুরির হিসাবের মধ্যে দেখাতে চাইলেও শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে একমাত্র রেশন ছাড়া আর কোনটাকেই মজুরির হিসেবে ধরা যায় না। শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ২(৪৫) অনুসারে যেসব সুবিধাকে মজুরি হিসেবে গণ্য করা যাবে না তার মধ্যে রয়েছে: বাসস্থান, আলো, পানি, চিকিৎসা সুবিধা বা অন্য কোন সুবিধা প্রদানের মূল্য, অবসর ভাতা তহবিল বা ভবিষ্য তহবিলে মালিক কর্তৃক প্রদত্ত কোন চাঁদা ইত্যাদি।

তাছাড়া চা বাগানের যে জমিতে চা শ্রমিকদের থাকতে দেয়া হয়, সে জমি বাগান মালিকের বাপদাদার জমি নয়, এগুলো সরকারি অর্থাৎ জনগণের জমি। যদিও কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করবার কারণে এইসব জমি চা শ্রমিকদের নিজস্ব জমি হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিএস কিংবা আরএস জরিপ করবার সময় এইসব জমিকে স্রেফ খাস জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে যেন জমিতে স্রেফ থাকতে দেয়ার বিনিময়ে চা জনগোষ্ঠিকে যুগ যুগ নিম্ন মজুরির জীবনের মধ্যে আটকে রাখা যায়। এইজমিগুলোতে চা-জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক অধিকার রয়েছে কারণ দেড়শ বছর আগে তাদেরকে যখন মধ্যপ্রদেশ, ছোট নাগপুর, যুক্ত প্রদেশ কিংবা মাদ্রাজ থেেকে এই দেশে নিয়ে আসা হয় তখন এখানে বসবাস করবার অধিকার দেয়ার কথা বলেই তাদেরকে আনা হয়।

রেফারেন্স হিসেবে শ্রম আইনের ১ম অধ্যায়ে দেয়া মজুরির সংজ্ঞাটি এখানে তুলে দেয়া হলো:
২(৪৫) “মজুরী” অর্থ টাকায় প্রকাশ করা হয় বা যায় এমন সকল পারিশ্রমিক যাহা চাকুরীর শর্তাবলী, প্রকাশ্য বা উহ্য যেভাবেই থাকুক না কেন পালন করা হইলে কোন শ্রমিককে তাহার চাকুরীর জন্য বা কাজ করার জন্য প্রদেয় হয়, এবং উক্তরূপ প্রকৃতির অন্য কোন অতিরিক্ত প্রদেয় পারিশ্রমিকও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে, তবে নিম্নলিখিত অর্থ ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে না, যথাঃ-
(ক) বাসস্থান সংস্থান, আলো, পানি, চিকিৎসা সুবিধা বা অন্য কোন সুবিধা প্রদানের মূল্য অথবা সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে এইরূপ কোন সেবার মূল্য,
(খ) অবসর ভাতা তহবিল বা ভবিষ্য তহবিলে মালিক কর্তৃক প্রদত্ত কোন চাঁদা,
(গ) কোন ভ্রমণ ভাতা অথবা কোন ভ্রমণ রেয়াতের মূল্য,
(ঘ) কাজের প্রকৃতির কারণে কোন বিশেষ খরচ বহন করিবার জন্য কোন শ্রমিককে প্রদত্ত অর্থ;..”

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, সর্বজনকথা

শেয়ার করুন