ডেস্ক রিপোর্ট

১৫ আগস্ট ২০২২, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শেষ পর্যন্ত ফেরানো যাবে কী না তা নিয়ে সংশয়

আপডেট টাইম : আগস্ট ১৫, ২০২২ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আত্মস্বীকৃত খুনিদের মধ্যে পাঁচজন এখনো পলাতক। সরকারের কাছে তথ্য হলো, দুই খুনি এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। অবস্থান জানা থাকলেও এ দুজনকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের আশা ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কানাডা মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করায় দেশটি থেকে নূর চৌধুরীকে ফেরানোর ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। আর ২০২০ সালের জুনে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়সংক্রান্ত মামলার নথি তলব করেছিল। এতে সরকার তাঁকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আশাবাদী হয়।

কারণ, মামলাটি পুনরায় সচল হলে রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলের পর সে প্রক্রিয়া অনেকটা মন্থর হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শেষ পর্যন্ত ফেরানো যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করেন সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্য। বিদেশে থাকায় শুধু বেঁচে যান তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। খুনিদের দায়মুক্তি দিতে আইনও করা হয়েছিল। তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু করে। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল এই মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় দেন। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আরেক খুনি আজিজ পাশা ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

পলাতক খুনিদের মধ্যে আবদুল মাজেদকে ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় পুলিশ। কয়েক দিন পরেই (১১ এপ্রিল রাতে) তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তখন ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় যে দীর্ঘদিন ধরে নাম ও পরিচয় গোপন করে খুনি মাজেদ কলকাতায় বসবাস করছিলেন।

এখনো পলাতক পাঁচ খুনির মধ্যে তিন খুনি—খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। দুই খুনির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলেও ফিরিয়ে আনা যায়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে তখনকার অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার খুনি রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলা পুনর্বিবেচনার নোটিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে, তা বাংলাদেশের জানা নেই। গত এক বছরে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানালে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা বলেছেন, বিষয়টি সে দেশের বিচার বিভাগে রয়েছে।
জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যতগুলো বৈঠক হয়েছে, সব আলোচনাতেই রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর বিষয়টি তুলেছি। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়ায় থাকার কারণে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং হোয়াইট হাউস থেকে এ বছর একাধিকবার বলা হয়েছে, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এ নিয়ে কাজ করছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলের কারণে রাশেদ চৌধুরীর বিষয়টি গুরুত্ব হারিয়েছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘এই মামলাটি এখন তাদের কাছে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, আগে বেশি ছিল বা কম ছিল, এ বিষয়ে বাইরে থেকে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এটাও ঠিক যে মার্কিন বিচার বিভাগ সে দেশের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত।’

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে আরও জানিয়েছেন, কানাডায় আশ্রয় নেওয়া নূর চৌধুরীর ব্যাপারে তথ্য পেতে দেশটির আদালতে বাংলাদেশ যে মামলা করেছিল, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত ঢাকাকে কিছু জানায়নি অটোয়া। তাঁকে ফেরানোর জন্য কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চলছে আইনি উদ্যোগও।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত আনতে সরকার সে দেশে এল এল স্কাডেন এবং কানাডা থেকে নূর চৌধুরীকে ফেরত আনতে টরি এলএলপি নামের দুই আইনি পরামর্শক সংস্থাকে যুক্ত করে কাজ করছে।

নূর চৌধুরীর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি না, জানতে চাইলে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, কানাডায় মৃত্যুদণ্ড রহিত হওয়ায় নূর চৌধুরীকে ফেরানোর ক্ষেত্রে আইনি দিক থেকে কিছু সমস্যা আছে। তারপরও সে দেশের কর্তৃপক্ষ ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে নানা পর্যায়ে যোগাযোগ হচ্ছে

শেয়ার করুন