ডেস্ক রিপোর্ট
৮ আগস্ট ২০২২, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ধোপাদিঘীতে সিটি করপোরেশন নির্মিত নান্দনিক ওয়াকওয়ে উদ্বোধন হয়েছে গত ১১ জুন। প্রাচীনতম ‘ধোপাদিঘী’ সিসিকের পরিকল্পনায় নতুন রূপ পেয়েছে।
বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এটির উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়,এ প্রকল্পে ভারত সরকার ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬ কোটি টাকাসহ ধোপাদিঘী প্রকল্পে মোট ব্যয় হয় ১৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এছাড়া চারাদিঘির পাড় মজলিশ আমিন স্কুল ভবন নির্মাণে ৬ কোটি ও সিসিকের আধুনিক সুইপার কলোনি নির্মাণ প্রকল্পে ৬ কোটি টাকাসহ মোট ৩টি প্রকল্পে ভারত সরকার ২১ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়ন করে। আজ সেসব প্রকল্পগুলোও উদ্বোধন করা হবে।
২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা থেকে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়। সিসিক ধোপাদিঘীকে নতুন রূপ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ভারত সরকার এগিয়ে আসে এর অর্থায়নে। ‘ধোপাদিঘী এরিয়া ফর বেটার এনভায়মেন্ট অ্যান্ড বিউটিফিকেশন’ নামে প্রকল্প গ্রহণ করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়।সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, দীঘিতে পানি ছিল ৩ দশমিক ৪১ একর জায়গাজুড়ে। চারপাশে দখল হওয়া জায়গা উদ্ধারের পর পানির সীমানা বেড়ে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৭৫ একরে উন্নীত হয়েছে। নোংরা দুর্গন্ধময় পরিত্যক্ত এই দীঘিকে অপরূপ সৌন্দর্যে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ধোপাদিঘীতে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। চারদিকে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। বসার জন্য রয়েছে বেঞ্চ। পুকুরে নামার জন্য রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ঘাট। পুকুরের নোংরা পানিকে পরিষ্কার করা হচ্ছে। নৈসর্গবিদের পরামর্শে গাছ লাগানো হবে। স্থাপন করা হয়েছে পাবলিক টয়লেট।
উদ্বোধন এরপর থেকেই প্রতিদিনই মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা যায়।তরুণ তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষেরাই বিকেল থেকে সন্ধ্যা রাত্রি পর্যন্ত ঘুরতে দেখা যায়।
তাছাড়া সন্ধ্যার পর থেকে ওয়াকওয়ে এর চারিপাশে লাগানো দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা যে কারো মন কাড়বে এই সময়টা।কেউ কেউ বন্ধুবান্ধব মিলে আড্ডা দিচ্ছেন।কেউবা আবার দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জায় ছবি তুলছেন।অনেক বয়সী মানুষ আবার বিকেলে কিছুটা শান্তি পরশে হাটতেও বের হয়েছেন।
এমনি একজন বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী আলিয়া আঞ্জুম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান,এখানে প্রথম বন্ধুদের সাথেই গিয়েছি।পরিবেশটা খুবই সুন্দর,শান্ত।চারদিকে বসার জায়গা,ছবি তোলার জায়গা,গাছ,পুকুর। সবাই আসছেন,কেউ গল্প করছেন,গান করছেন,নাচ করছেন,ছবি তুলছেন।তবে একটা বিষয় না বললেই নয়,প্রথম যখন গিয়েছি তখন ওয়াকওয়ের রাস্তা,পুকুর একদম পরিষ্কার ছিলো। কিন্তু,ইদানিং দেখেছি যে পুকুরের পানি নোংড়া হচ্ছে তাছাড়া অনেকে বিভিন্ন অব্যবহৃত জিনিসপত্র রাস্তায় ফেলে নোংড়া করছেন।আমাদের সবার উচিত এইসব বিষয়ে সচেতন হওয়া আর কর্তৃপক্ষেরও উচিত এইসব বিষয়ে সচেতন হওয়া ধন্যবাদ।
এ ব্যাপারে সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন সিলেট এর সহকারী হাইকমিশনার নিরাজ কুমার জ্যায়সওয়াল বলেন,,ভারত বাংলাদেশের বন্ধুত্বের ৫১ বছর চলছে।১৯৭১ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে সেই বন্ধুত্বের শুরু।ভারত সরকার সবসময় বাংলাদেশের পাশে আছে ও থাকবেও।
তিনি আরো বলেন,”বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘি” প্রকল্পে ভারত সরকার যুক্ত হতে পেরে আমরা আনন্দিত। আশা করি পুরো প্রকল্পের কাজ খুব দ্রুতই শেষ হবে।
ভারত বাংলাদেশ বন্ধুত্ব আরো সামনে এগিয়ে যাবে এই প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে