ডেস্ক রিপোর্ট
২ আগস্ট ২০২২, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
বরিশাল প্রতিনিধি:: বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি আইন বাতিল, দুর্নীতি লুটপাট ও অনিয়মকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি সহ দেশব্যাপী অসহনীয় লোডশেডিং ও জনভোগান্তির প্রতিবাদে গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ সোমবার(১ আগষ্ট২০২২) সকাল ১০ঃ৩০ মিনিটে নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল জেলা কমিটির সংগ্রামী আহ্বায়ক জননেতা দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলুর সভাপতিত্বে ও জেলা কমিটির সদস্য সাকিবুল ইসলাম সাফিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সদস্য সচিব আরিফুর রহমান মিরাজ, সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইয়াসমিন সুলতানা, হাছিব আহমেদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি জাবের মোহাম্মদ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জামান কবির ও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ বরিশাল জেলা সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রাসেল প্রমুখ।
এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, “দেশ আজ ভয়াবহ সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশে যে বিদ্যুৎ সংকট চলছে তাতে ইতোমধ্যে জনমনে নাভিশ্বাস উঠেছে। ধারনা করা হচ্ছে এ সংকট আরো গভীর হবে। চলমান বিদ্যুৎ সংকটের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সংবাদ আসছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এর মধ্যে সার উৎপাদন কমানো হয়েছে। যার ফলে অচিরেই দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। সরকারের বিভিন্ন মহল উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক বাজার দামের উর্দ্ধমূখীতাকে দায়ি করছে। আসলে এ পরিস্থিতির জন্য তাদের দূর্নীতি ভুল নীতি ও অব্যাবস্থাপনা দায়ি।”
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “সীমাহীন অব্যবস্থাপনা, লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাটই বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ি। কোন ধরনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই সরকার আমদানি নির্ভর জ্বালানী মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছেন। যার খেসারত সারা দেশের জনগণকে দিতে হচ্ছে। সরকার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করার ঘোষণা দিলেও তা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সারাদেশে গণদুর্ভোগ চলছে। সরকারের বিদ্যুৎখাতের সফলতার বানী ফাঁকা বুলিতে পরিনত হয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারলে সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এর দায় জনগণ নেবে না”
এসময় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার তার গোষ্ঠী স্বার্থ রক্ষার জন্য টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত না করে যেমন আমদানি নির্ভর হয়েছেন তেমনি কতিপয় ব্যাবসায়িকে সুবিধা দেয়ার জন্য ভাড়া ভিত্তিক রেন্টাল, কুইক রেন্টাল ব্যবস্থায় ঝুঁকেছে। যার দরুন দেশের ভূ-ভাগের গ্যাস উত্তোলন কিংবা দেশীয় সক্ষমতায় জ্বালানী নির্ভর কোন পরিকল্পনা নেয়া হয় নি। দীর্ঘদিন আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের কথা বললেও সরকার ন্যূনতম কর্ণপাত করে নি। বরং সরকার বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্চ নামের লুটপাট দূর্নীতির বৈধতা দেয়ার জন্য দায় মুক্তি আইন পাশ করেছেন।”
গতকাল ভোলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, “দেশে আজ ন্যূনতম নাগরিক অধিকার নেই। সভা-সমাবেশ ও বাকস্বাধীনতার অধিকার হরন করে সরকার যে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছেন তার বহিঃপ্রকাশ গতকাল ভোলায় পুলিশি হামলা। আমরা এই পুলিশি তান্ডব ও হামলার নিন্দা জানাই। সরকার তার স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশের সমগ্র প্রতিষ্ঠানকে ব্যাবহার করছে।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা বিদ্যুৎ খাত সহ দেশের সর্ব ক্ষেত্রে শতভাগ জবাবদিহিতা চাই। প্রত্যেক কানা কড়ির হিসেব চাই। দেশে প্রত্যক নাগরিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ভোটাধিকার ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রুপান্তর। আমরা দেশের সকলের প্রতি আহ্বান জানাই , প্রত্যেকের অধিকার আদায়ের জন্য, শতভাগ জবাবদিহিতার জন্য, শাসনব্যবস্থা গণতান্ত্রিক করার জন্য রাজপথের সংগ্রাম গড়ে তুলুন”