ডেস্ক রিপোর্ট
১৫ জুন ২০২২, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
বগুড়া প্রতিনিধি:: ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্ছেদ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। আজ বুধবার (১৫ জুন ২০২২) বিকাল চারটায় বাম গণতান্ত্রিক জোট এর কেন্দ্রীয় সফরের অংশ হিসেবে বগুড়া জেলার উদ্যোগে সাতমাথায় বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলার সমন্বয়ক, সিপিবি বগুড়া জেলা সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম, সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাসদ জেলা সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, সিপিবির কেন্দ্রীয় সহকারি সম্পাদক মিহির ঘোষ, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য নব কুমার কর্মকার, বাসদ ( মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, বাসদ জেলা অন্যতম সদস্য অ্যাড. দিলরুবা নূরী। সমাবেশ শেষে শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে মোশাররফ হোসেন নান্নু বলেন, “দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নে দেশের মানুষ এক সংকটময় পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামত চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। এর ফলে শ্রমিক, কৃষক, নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা নেই। দেশে ধনী-গরীবের বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। দলীয় মাস্তান ও সামরিক বেসামরিক আমলাদের উপর নির্ভর করেই ক্ষমতায় বসেছে। সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই, তাই একইভাবে ফ্যাসিবাদী শাসন বহাল রেখে আসন্ন নির্বাচন পার করতে চাইছে। জনগণের বুকের উপর চেপে আছে এক জগদ্দল পাথর, এ পাথর সরাতে হলে বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালি করতে হবে,লড়াই বেগবান করতে হবে।”
মিহির ঘোষ বলেন, “গ্রাম থেকে শহরে সর্বত্র দব্যমূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, ভোটাধিকার নেই। ভয়ের পরিবেশ চলছে। সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। এই অবস্থা রেখে উন্নয়ন আর গণতন্ত্রের বুলি হাস্যকর। এর অবসান ঘটাতে সাহস করে মাঠে নামতে হবে, চলমান দুঃশাসন হটিয়ে ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম অগ্রসর করতে হবে।”
নব কুমার কর্মকার বলেন, ” ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে বাইরে ধমক, লোক দেখানো তৎপরতা আর ভিতরে আশ্বস্থ রাখা, বিদেশি শক্তিকে তুষ্ট রাখার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা, চোর-ডাকাতের মধ্যে কে ভালো কে মন্দ, বাচাল বিতর্কে আসর মাতিয়ে অন্যায়-জুলুমকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনিতর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে বুর্জোয়া শ্রেণীর ধনবাদী স্বার্থ চেতনার বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা শোষণমুক্তির সমাজতান্ত্রিক চেতনা নিয়ে দাঁড়াতে হবে। আসন ভাগাভাগি, গদি নিয়ে কামড়াকামড়ির বদলে শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত সংগ্রাম গড়ে তুলতে বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে শক্তিশালী করা আজ সময়ের দাবি।”
অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এই তিনটি কথা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ- এর কোনটার অস্তিত্ব আজ খুঁজে পাওয়া কঠিন। বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ঘরে ঘরে অশান্তির আগুন, অর্ধেক জনসংখ্যা নারী মর্যাদা রক্ষায় আতঙ্কে ভীত। বগুড়া শহর যেন খুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে, বিচার আলোর মুখ দেখে না। বিশাল অর্থনৈতিক বৈষম্য। এসবের থেকে নিস্তার পেতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। নেতৃবৃন্দ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সেইসাথে নেতৃবৃন্দ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান।