ডেস্ক রিপোর্ট

১৫ এপ্রিল ২০২২, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

যে সংকট কাজে লাগিয়ে ন্যাটোর সম্প্রসারণ চায় যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৫, ২০২২ ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ন্যাটো প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৯ সালে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার চার বছর পরেই। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সামরিক সহায়তা সরবরাহের উদ্দেশে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মাধ্যমেই ইউরোপের দেশগুলোতে আমেরিকার সেনারা অস্ত্রসহ অবস্থান করছে। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, পূর্ব ও মধ্য ইউরোপে নবগঠিত জোটের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করা।

ন্যাটোর উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত আগ্রাসন ও সম্প্রসারণ থেকে সদস্যদের রক্ষা করা। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ওয়ার্সা প্যাক্ট ভেঙ্গে যায়। কিন্তু তখনও ন্যাটো ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে তারপর থেকে ন্যাটোর আগ্রাসন আরও বাড়তে থাকে।

কেউই গুরুত্ব সহকারে তর্ক করতে পারে না যে ন্যাটো একটি রক্ষণাত্মক জোট। বরং এটি একটি আক্রমণাত্মক ও পারমাণবিক জোট। যা মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরে ধীরে ধীরে ন্যাটোর সম্প্রসারণ ঘটে। এসময় ১৬টি দেশ থেকে তাদের কার্যক্রম ৩০টি দেশে শুরু হয়।

ইউরোপে বর্তমানে যে সংকট চলছে তার পেছনে রয়েছে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নীতি। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইউক্রেনে পশ্চিমাপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর সে সরকার ন্যাটোতে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

রাশিয়া শুরু থেকেই ন্যাটোতে যোগ দেওয়া বিষয়ে ইউক্রেনকে সতর্ক করে আসছে। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে। কারণ দেশ দুইটির মধ্যে দুই হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে।

মস্কো এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ন্যাটো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে বহুবার। তবে মস্কোর এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ইউক্রেনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যৌথ সামরিক মহড়া চালায় ন্যাটো।

এরপরই ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, বিভিন্ন ধরনের সতর্কতার বিষয়ে ন্যাটো যদি মনোযোগ দিতো তাহলে যুদ্ধ এড়ানো যেতো।

নিরাপত্তা ইস্যুতে চীনও কয়েকবার এ বিষয়ে সতর্ক করে। ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিলে স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়ার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। সেজন্য ইউক্রেনের উচিত নিরপেক্ষ থাকা। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি স্যাস বলেন, ইউক্রেন নিরপেক্ষ থাকলে রাশিয়া ও ন্যাটো দূরে অবস্থান করবে, যা সবার জন্যই ভালো।

ফলে ইউক্রেন সংকটের প্রাথমিক কারণ হচ্ছে ন্যাটোর আগ্রাসন ও সম্প্রসারণ নীতি। এদিকে এ সংকটকে কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের নামে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর সম্প্রসারণ চায় যুক্তরাষ্ট্র। শুরু থেকেই রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেন নিরপেক্ষতার নীতি অবলম্বন করে। তবে এখন দেশ দুইটি ন্যাটোতে যোগ দিতে চাচ্ছে অর্থাৎ তাদের যোগ দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে ইউরোপজুড়ে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দেবে বলে মনে কার হচ্ছে।

ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হচ্ছে সম্প্রসারণ নীতি থেকে ন্যাটোর সরে আসা। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় শীতল যুদ্ধ তৈরিকারী ন্যাটো ও অকাসের মতো জোটগুলোকেও ভেঙে দেওয়া উচিত।

শেয়ার করুন