ডেস্ক রিপোর্ট
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: এরশাদের ক্ষমতা দখলের পর প্রথম গর্জে উঠেছিল এদেশের ছাত্র সমাজ। ১৯৮৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি সামরিক একনায়ক এরশাদের শিক্ষামন্ত্রী ঘোষিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলে ছাত্ররা। সেদিন পুলিশের গুলিতে শহিদ হয়েছিলেন জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দীপালি সাহাসহ নাম না জানা অনেকে। কালের পরিক্রমায় দিনটির কথা ভুলতে বসেছে এদেশের মানুষ। সেসময়ের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নেতারা জানান গণতন্ত্রের উত্তাল দিনের গৌরবগাঁথা স্মরণে নেই বলেই নতুন প্রজন্ম আদর্শহীন হতে চলেছে।
১৪ই ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর ধরে ভালোবাসা দিবস হিসেবে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। কিন্তু ১৯৮৩- সালে এই দিনে গণতান্ত্রের সংগ্রামে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলো ছাত্ররা। কালক্রমে সেটিই গণআন্দোলনে রুপ নিয়েছিল।
স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফয়জুল হাকিম লালা বলেন, শিক্ষা দিবস পালন উপলক্ষ্যে এখানে তার আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগাতে গিয়ে কয়েকজন ছাত্রনেতা গ্রেপ্তার হন। শিবলী কাইয়ুম, হাবিব, আলী আহমেদ, হাবিবুর রহমান তারা গ্রেপ্তার হন। তাদেরকে সংক্ষিপ্ত সামরিক আদালতে ৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে ছাত্ররা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সংঘটিত করেন।
স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাজমুল হক প্রধান জানান, জনতার স্রোত সেটা প্লাবন থেকেও যে বেশি কিছু হয় সেটাই হয় সেদিন। নিমেষেই পুলিশের ব্যারিকেড খান খান হয়ে যায়। সেখানের পুলিশের গুলি চলে। স্কুলছাত্রসহ জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, কাঞ্চন মারা যায়।
শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সেই সময়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও আত্মত্যাগ কতটুকু জানে নতুন প্রজন্ম?
এক শিক্ষার্থী বলেন, স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস নিয়ে কারও মাথাব্যথাই নাই। ভ্যালেন্টাইন নিয়ে সকলের কাছে উৎসব থাকে।
আরও এক শিক্ষার্থী বলেন, ওইটাকে খুব ভালোভাবে নেয় না কেউ। দিবসটি বাঙালি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন।
স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা শফি আহমেদ বলেন, গণতন্ত্র যতটুকু পাওয়ার কথা, পরবর্তী সময়ে যে সকল সরকার এসেছে তারা সর্বদলীয় ছাত্রদের ১০ দফা ও তিন জোটের যে রুপরেখা যার ভিত্তিতে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিলো সেই কমিটমেন্টগুলো তারা পরিপূর্ণ করেন নাই।
স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রামের রক্তাত্ব ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন ধারণ করতে পারে এমন আশাই করেন সেই সময়ের ছাত্রনেতারা।
আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল জানান, ছাত্ররা যেমনভাবে স্বৈরাচার শাসকের প্রতিবাদ করে, সামরিক স্বৈরাচারের সহযোগী স্বৈরশাসক, জঙ্গিশাসক, মৌলবাদী শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। ঠিক তেমনই এই চাপিয়ে দেয়া শিক্ষানীতির বিরুদ্ধেও তারা প্রতিবাদ করে।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতারাই এখন জাতীয় নেতা। কিন্তু তাদের বিভক্তির কারণে এখনও দেশের সব মানুষের মুক্তি মেলেনি।