ডেস্ক রিপোর্ট
১৩ জানুয়ারি ২০২২, ৩:২২ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: পিরোজপুরে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগদানকে কেন্দ্র করে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করেছে প্রতিপক্ষরা। গুরুতর আহত যুবলীগ নেতা নাদিম খানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কদমতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খান।
আহত যুবলীগ নেতা নাদিম খান (৩৫) সদর উপজেলার তেজদাসকাঠী এলাকার নজরুল ইসলাম খানের ছেলে ও আহত মাসুদ শেখ (২৫) উত্তর কদমতলা এলাকার আব্দুর রহিম শেখের ছেলে।
আহত মাসুদ শেখ জানান, বুধবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ছিল। সেই সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খানের নেতৃত্বে যোগদান করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব হোসেন ও তার ভাতিজা বায়জীদ লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে এ অবস্থা করেছে।
সাধারণ সম্পাদক হানিফ খান বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের লোকজন বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা সফল করার জন্য যোগদান করে। বুধবার লোক বেশি থাকায় তাদের ওপর হামলা করতে পারেনি। তাই আজ বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব ও তার ভাতিজা বায়জীদের নেতৃত্বে হত্যার উদ্দেশে এ হামলা চালিয়ে নাদিমের হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পর খুলনায় পাঠানো হয়েছে। নাদিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ২০ থেকে ৩০টি কোপ দেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আরিফ হাসান জানান, দুজনকে কুপিয়ে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। যার মধ্যে একজনের হাত বিচ্ছিন্ন থাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। আহত নাদিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ জা মো. মাসুদুজ্জামান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।