ডেস্ক রিপোর্ট

২৬ এপ্রিল ২০২১, ১০:১৮ অপরাহ্ণ

২০ রোজার মধ্যে পর্যটন শ্রমিকদের বোনাসসহ বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৬, ২০২১ ১০:১৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: ২০ রোজার মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাসহ পর্যটন খাতের সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের পূর্ণ ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেলস ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আহবায়ক রাশেদুর রহমান রাশেদ, যুগ্ম আহবায়ক ফারহানা ইয়াসমিন, সাহিদুল ইসলাম, শরীফ আহমেদ, মহিউদ্দিন রিমেল, খালেকুজ্জামান লিপন এবং সদস্য সচিব আহসান হাবিব বুলবুল সোমবার, ২৬ এপ্রিল এক যৌথ বিবৃতিতে এই জানিয়ে করোনায় কর্মহীন শ্রমিকদের তালিকা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নগদ সহায়তা প্রদানের দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পর্যটন খাত। আর পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারী মালিকদের আত্মস্বার্থ সর্বস্ব দায়িত্বহীন আচারনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এই খাতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার সরকারি প্রতিষ্ঠান উওঋঊ এর কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার সুযোগ নিয়ে গত বছর হোটেল-মোটেল-রেষ্টহাউজ-রেঁস্তোরার মালিকরা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটির সময় শ্রমিকদের কোন ধরণের পূর্ব নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাকুরিচ্যুত অথবা বিনা বেতনে ছুটিতে যেতে বাধ্য করেছিল। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ কোন অর্থ পরিশোধ করেননি। যার ফলে পর্যটন শ্রমিকদের সপরিাবরে প্রায় অর্ধাহার-অনাহারে জীবনযাপন করতে হয়েছে। পর্যটন সেবাই দক্ষ অনেক কর্মী পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। যা প্রকারন্তে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, পর্যটন খাতের সাথে যুক্ত কিছু সুযোগসন্ধানি মালিক পূর্বের বছরের মতই এ বছরেও শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। সরকারও লকডাউনে উপার্জনহীন হয়ে পরা পর্যটন শ্রমিকদের কোন সহায়তা প্রদান করেননি। যা পর্যটন খাতে কর্মরত ৪০ লক্ষ শ্রমিক এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যসহ প্রায় দেড়কোটি মানুষকে শুধু চরম অনিশ্চয়তা এবং অসহায়ত্বের মধ্যেই ঠেলে দিচ্ছে না, তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভেরও জন্ম দিচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ, ২০ রোজার মধ্যে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল খাতের শ্রমিকদের পূর্ণ ঈদ বোনাসসহ বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কর্মীদের ন্যায্য আধিকার থেকে বঞ্চিত করার চর্চা দিয়ে কখনো একটি শিল্পের সাসটেনেবল বিকাশ হবেনা। আর সঞ্চিত ক্ষোভের প্রকাশ কোন পক্ষের জন্যই সুখকর হবে না।

পর্যটন খাতের কর্মহীন শ্রমিক-কর্মচারীদের তালিকা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নগদ সহায়তা প্রদানের কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রাকৃতিক নৈসর্গ আর অবকাঠামোগত সুবিধার পর পর্যটন শিল্পের দ্বিতীয় ভিত্তি হলো সেবা প্রদানের দক্ষতা। তাই পর্যটন শিল্পকে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে এই খাতের দক্ষ কর্মীদের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরী করতে হবে। মালিক এবং সরকারের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করছে, পর্যটন কর্মীরা পর্যটন শিল্পের বিকাশের সাথে তাদের ক্যারিয়ার বিকাশের পরিকল্পনা গড়ে তুলবে না কি বিক্ষুদ্ধতা আর হতাশা নিয়ে এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

নেতৃবৃন্দ, ২০ রোজার মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাসহ পর্যটন খাতের সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের পূর্ণ ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে এবং অন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস উদযাপনে ১ লা মে সকাল ১০ টায় তোপখানা রোডে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সমাবেশ ও র‌্যালির কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দেন এবং উক্ত কর্মসূচী সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।

শেয়ার করুন