ডেস্ক রিপোর্ট
২২ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুদিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে সূর্য উঁকি দিলেও, ছিল না তেমন তেজ। দিনভর বাতাসে ছিল শীতের দাপট। ছিল ঘন কুয়াশা।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, মিয়ানমার ও ভারতের পূর্বাঞ্চলের জলসীমায় সৃষ্টি হওয়া মেঘ বাংলাদেশে আসছে, এর ফলে আগামী দু-এক দিনে দেশের উপকূলীয় এলাকায় শীত কমবে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে হিমেল হাওয়ার প্রবাহ অব্যাহত থাকবে।
বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও কোথাও হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে এসব এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। তবে কিছু এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ কমে আসতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলাসহ সিলেট এবং ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস জানান, দেশের মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে হালকা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এতে শৈত্যপ্রবাহ কমতে পারে।
বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৮। এ ছাড়া যশোরে ৯ দশমিক ৬ এবং চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভাগীয় শহর ঢাকায় ১৫ ডিগ্রি, ময়মনসিংহে ১৩ দশমিক ৪, চট্টগ্রামে ১৬ দশমিক ৫, সিলেটে ১৪ দশমিক ৪, রাজশাহীতে ১১ দশমিক ৮, রংপুরে ১২ দশমিক ২, খুলনায় ১১ দশমিক ২ এবং বরিশালে ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানায়, চুয়াডাঙ্গায় শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বের হওয়া খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন বিপাকে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন শীতার্ত মানুষ।
বুধবার চুয়াডাঙ্গায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া চলতি সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
এদিকে উত্তরের জেলা দিনাজপুরে দিন যত যাচ্ছে, তাপমাত্রা ততই কমে আসছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছে দিনমজুর ও খেতে কাজ করা কৃষকরা। বাতাসের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা।
গত কয়েক দিন ধরে দিনাজপুরে মধ্যরাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল ৯টা পর্যন্ত সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে হেড লাইট জালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। মঙ্গলবার ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি, সোমবার ১১ ডিগ্রি, রোববার ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তবে দিন যত যাচ্ছে, দিনাজপুর জেলায় তাপমাত্রা ততই কমে আসছে।
একই অবস্থা হিমালয়ের কোলঘেঁষা সীমান্তবর্তী উত্তরের পঞ্চগড় জেলায়। গত কয়েক দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। তবে রাতে শীত, দিনে গরম অনুভূত হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে এখানে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। বিকেল থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার পাশাপাশি উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা মৃদু হিমেল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। মঙ্গলবারও এখানে একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে এখানে শীতের প্রকোপ আরও বাড়বে এবং ঘনকুয়াশার পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে বলে তিনি জানান।