ডেস্ক রিপোর্ট
১১ নভেম্বর ২০২১, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
বগুড়া প্রতিনিধি:: রুশ বিপ্লব এর ১০৪তম বার্ষিকী ও বাসদের ৪১ তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী উপলক্ষে বাসদ বগুড়া জেলার উদ্যোগে শহরে মিছিল শেষে সাতমাথায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর বেলা ১১:৩০টায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ জেলা আহবায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, বাসদ জেলা সদস্য মাসুদ পারভেজ, শহিদুল ইসলাম, অ্যাড. দিলরুবা নূরী, শ্যামল বর্মন, ধনঞ্জয় বর্মন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও রুশ বিপ্লব বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,“পুঁজিবাদী শোষণ ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে জর্জরিত বাংলাদেশে একদিকে কাজ হারিয়েছে কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষ, দারিদ্রসীমার নিচে নেমে গেছে ৪২ শতাংশ মানুষ। সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন বিপর্যস্ত, ২৬টি পাটকল ও ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিককে বেকার করে দেয়া হয়েছে, অন্যদিকে দেশে চলছে লুটপাটের মহোৎসব। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানী তেল, সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, দারিদ্রতা আর কোটিপতি সমানতালেই বেড়ে চলেছে। এই সমস্ত সংকট থেকে বগুড়ার মানুষও নিস্তার পায়নি। অথচ বাংলাদেশে যে পরিমাণ কৃষি জমি, নদী, হাওর, সমুদ্র এবং কর্মঠ জনগোষ্ঠী আছে তাতে জনগণের খাদ্য-বস্ত্র, শিক্ষা-চিকিৎসা, বাসস্থান ও কাজ এর ব্যবস্থা করা সম্ভব। এজন্য পুঁজিবাদী শোষণ-দুর্নীতি বন্ধ করে সমাজতন্ত্রের পথেই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।”
সাইফুজ্জামান টুটুল বলেন, “দেশের অস্থিতিকর পরিস্থিতির প্রভাব বগুড়াতেও প্রকটরূপে দেখা যাচ্ছে। জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে দাবিকৃত বকশিসের পুরোটা দিতে না পারায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিলে স্কুল শিক্ষার্থী রুগীর মৃত্যু ঘটে। স্কুলগুলোতে তিনটি বিষয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেবার কথা থাকলেও দেখা যাচ্ছে সমস্ত বিষয়ের পরীক্ষা নিচ্ছে শুধুমাত্র অতিরিক্ত পরীক্ষা ফি আদায় করার জন্য। উচ্চমাধ্যমিকদের বোর্ড পরীক্ষার মাত্র এক মাস আগে টেস্ট পরীক্ষা নেবার কথা বলে সেখানেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। অনার্সের ক্ষেত্রেও ফরমফিলাপ, ভর্তির নামে নানারকম ফি আদায় করছে। ৩০ হাজার ব্যাটারি রিক্সা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি লাইসেন্সের, সরকার সে বিষয়ে গুরত্ব দিচ্ছে না, ফলে রিক্সার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে যা যানজট তৈরি করছে, অন্যদিকে এই শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকছে। প্রায়শঃই জানতে পারা যাচ্ছে রিক্সা ছিনতাই করে চালককে আহত বা নিহত করছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরী। শহরের ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন কিন্তু তা পরিষ্কার করতে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না থাকায় যত্র তত্র ময়লা তুলে রাখা হচ্ছে যা জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে। আরো হাজারো সমস্যা নিয়ে বগুড়ার মানুষ দিনাতিপাত করছে। বাসদ আহবান জানায় শুধু সমস্যায় ডুবে হাবুডুবু না খেয়ে এসব মোকাবেলা করতে প্রতিবাদের শক্তিকে শক্তিশালী করার।”
অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের ফ্যাসিবাদী রূপ এত প্রকট হয়েছে যে, সরকারের সমালোচনাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে যে কোন প্রতিবাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হচ্ছে । দেশ পরিণত হয়েছে পুলিশি রাষ্ট্রে। সভা-সমাবেশ করার ন্যূনতম অধিকারও আজ কেড়ে নেয়া হয়েছে। কালোটাকা, পেশিশক্তি ও মিডিয়ার প্রভাব তো আগেই ছিল এখন পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাচনকে রাতের অন্ধকারের বিষয়ে পরিণত করে নির্বাচন ও গণতন্ত্র চর্চার ন্যূনতম সুযোগ শেষ করা হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে গণতন্ত্রের বিবর্ণ চেহারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সাম্প্রদায়িক সংহিংসতা বাড়ছে, বিপন্ন হচ্ছে মানবিক মূল্যবোধ। নারী নির্যাতন ভয়াবহরূপ নিয়েছে। যুব সমাজ বেকারত্বের ভারে হতাশাগ্রস্ত। এত এত সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রুশ বিপ্লবের পর যেভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্রীয় খরচে জনগণেল জন্য বিনামূল্যে মৌলিক মানবিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছিল সেভাবেই সমাজতন্ত্রের লড়াইকে বেগবান করতে হবে। নেতৃবৃন্দ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।