ডেস্ক রিপোর্ট

৫ নভেম্বর ২০২১, ৬:৩২ অপরাহ্ণ

গুচ্ছ ভর্তি: ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন ‍ফি ২ হাজার টাকা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

আপডেট টাইম : নভেম্বর ৫, ২০২১ ৬:৩২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। গত বুধবার ‘সি’ ইউনিটের ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষার ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের ফল পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ দেবে আয়োজক কমিটি। আগামী রোববার অথবা সোমবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হতে পারে। ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন ফি ২ হাজার টাকা করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন ফি ২ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী দুই/তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে জানানো হবে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত ওয়েবসাইট থেকেই শিক্ষার্থীরা ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেছিলেন, ফলাফল নিয়ে যারা সন্তুষ্ট না তাদের আমরা ফল পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ দেব। ফল তৈরিতে আমাদের কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করে দেওয়া হবে। ফল পুননিরীক্ষা করতে শিক্ষার্থীদের এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে বলে তিনি তখন বলেছিলেন।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ ও ক্ষোভ জানিয়ে ‘অধিকার” কে বলেছেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শুরুতেই গুচ্ছের আবেদন নিয়ে গুচ্ছ কমিটি টালবাহানা শুরু করে, প্রথমে আবেদন ফি ছিল ৫০০ টাকা পরে তা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করে তারপরে এক লাফে তা বাড়িয়ে ১২০০ টাকা করে আচ্ছা ঠিক আছে তাও মেনে নিলাম তারপর শুরু হয় কেন্দ্র নিয়ে কাহিনী কারো বোর্ড চট্টগ্রামে হলে তার সীট পরেছে সেই উত্তরবঙ্গে, এরপর শুরু হয় রেজাল্ট নিয়ে, প্রত্যেকটা ইউনিটের রেজাল্টে মারাত্মক ভাবে ভুল ছিল, এখন শুরু হয়েছে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা ১২০০ টাকা দিয়ে ভর্তি পরিক্ষা দিয়েছি এখন আবার আবেদন প্রক্রিয়াতে টাকা লাগবে কেন? আচ্ছা লাগুক ধরে নিলাম সেটা তো হওয়া উচিত মিনিমাম কম্পিউটার চার্জি কিন্তু গতকাল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্কুলারে প্রতি বিভাগে আবেদন করতে লাগবে ৬৫০ টাকা করে, এর কি কোনো যৌক্তিকতা আছে? এরকম করে যদি গুচ্ছ ভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ই যদি অযৌক্তিক টাকার পরিমাণ দেয় তাহলে কি পরিমান টাকা লাগবে আবেদন করতে একটা স্টুডেন্টের একবার ভেবে দেখেছেন? যেখানে আমরা ১২০০ টাকা দিয়ে ভর্তিপরিক্ষা দিয়েছি এখন আবার এতো টাকা লাগবে কোন যুক্তিতে? এরকম হলে আমরা কোথায় যাবো? গুচ্ছ প্রক্রিয়াটি কেন শুরু হয়েছিল আমাদের যাতায়াত সুবিধা এবং খরচ কমানোর জন্যই তো নাকি তাহলে এখন এরকম শুরে করেছে কেন এই গুচ্ছ প্রক্রিয়াতে তো আমাদের আরো ভোগান্তি হচ্ছে এর থেকে আগের সিস্টেমই অনেক ভালো ছিল এদের ভর্তিবানিজ্য আমাদের শেষ করে দেবে।

রৌদ্র নামে একজন ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী জানান, গুচ্ছে আমরা ১২০০ টাকা দিয়ে আবেদন করি, গুচ্ছ সিরিয়াল না দিয়ে শুধু মার্ক দিয়ে রেজাল্ট পাবলিশ করছে। এখন আলাদা আলাদা ইউনিভার্সিটি সার্কুলার দিবে। সেটার উপর ভিত্তি করে আবার আবেদন করতে হবে। ভার্সিটিগুলা আবার টাকা নিচ্ছে আলাদা করে। যবিপ্রবিতে বিজ্ঞান বিভাগে আবেদন করতে ২৪০০ টাকা লাগবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর ‘এ’ ইউনিট এবং ২৪ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয় ২০ অক্টোবর আর ‘বি’ ইউনিটের ২৬ অক্টোবর।

শেয়ার করুন