ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

বগুড়ায় ছাত্র ফ্রন্টের সম্মেলন, সভাপতি ধনঞ্জয় ও সম্পাদক নিয়তি

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি:: বগুড়ায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ জেলা সম্মেলনে ধনঞ্জয় বর্মন কে পুনরায় সভাপতি এবং নিয়তি সরকার নিতু কে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ঠ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এই কমিটি ঘোষণা করেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২১) সকাল সাড়ে ১১ টায় বগুড়া শহরের সাতমাথায় জেলা সম্মেলন অনুষ্টিত হয়।

আনন্দঘন পরিবেশে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং উদ্বোধনী বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেণ প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহাফুজুল হক দুলু।

বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের ঘোষনা বাস্তবায়ন করা, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা ও শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামে সামিল হওয়া এবং করোনাকালীন সময়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন ফি মওকুফ করার দাবিতে এই জেলা সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। উদ্বোধন শেষে বগুড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়কে মিছিল ও সাতমাথায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা আহ্বায়ক কমরেড এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, সহ-সভাপতি শ্যামল বর্মন, বগুড়া জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নিয়তি সরকার, সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

সংহতি বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেন।

কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, “আজ গোটা দেশ শাসক শ্রেণীর কাছে জিম্মি। শিক্ষার্থীরাও তার বাইরে নয়। লুটেরা ধনিক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই সরকার ক্ষমতা আকড়ে ধরে রেখেছে। আজকে তাদের বিরুদ্ধে জনগণের পক্ষে আন্দোলন সংগঠিত করা ছাত্র সমাজের ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

সমাবেশে নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, সকল মানুষের জন্য শিক্ষা নয়। শিক্ষা পাবে শুধু মুষ্টিমেয় সম্পদশালী লোকজন। সকল মানুষ শিক্ষা পেলে তাদের লুটপাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে, অনিয়মের বিরুদ্ধে মানুষ রুখে দাঁড়াবে। তাই তাদের শিক্ষানীতি হল শিক্ষাকে সংকুচিত করার নীতি। তার বিরুদ্ধেই যুগে যুগে শিক্ষার্থীরা দাড়িয়েছে। শাসকেরা শিক্ষাকে তাদের স্বার্থের অনুগামি করতে চেয়েছে।কিন্তু তা পারেনি শিক্ষা গড়ে তোলে যুক্তিবাদী মন আর যাচাই করার ক্ষমতা যা শোষণমুলক ব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাই শাসকেরা বারবার শিক্ষার মর্মবস্ত ধ্বংস করতে চেয়েছে। সেই বৃটিশ আমল থেকেই এদেশের ছাত্ররা সর্বজনীন- গণতান্ত্রিক শিক্ষার দাবিতে লড়াই করেছে। পাকিস্তানি প্রায় উপনিবেশিক শাসনমলে ও ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, স্বাধীকার আন্দোলনে উচ্চারিত হয়েছে সর্বজনীন- বিজ্ঞানভিত্তিক একই ধারার শিক্ষার দাবি। ছাত্র আন্দোলনের সেই লড়াকু ধারাকে ধারন করে শোষনমুলক পুজিঁবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তনের পরিপুরক ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমাজতন্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ধারাবাহিক ভাবে সারা দেশে লড়াই করছে।সেই লড়াইয়ে ছাত্র সমাজকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অন্যন্য নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে, শিক্ষা ব্যয় বাড়ছে এর ফলে সাধারণ মানুষ শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অপর্যাপ্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নানাবিধ সংকটে ভুগছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির নামে ক্রমাগত বেতন-ফি বাড়িয়ে চলেছে। শিক্ষা-গবেষণায় বরাদ্দ শূণ্যের কোঠায়। এই সংকট নিরসনে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত যৌক্তিক। অথচ সরকার সেই পথে পা না দিয়ে শিক্ষা সংকোচনের নীতিকে বাস্তবায়নের পথই বেছে নিয়েছে। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন