ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫:৫১ অপরাহ্ণ

তিন দফা দাবিতে শিক্ষা অধিদপ্তরে ছা­­­ত্র ইউনিয়নের স্মারকলিপি পেশ

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ৫:৫১ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের বেতন ফি মওকুফ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও আগামী ১ বছরের বেতন ফি মওকুফের দাবীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

এর আগে দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি জহরলাল রায়ের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, সহকারী সাধারণ সম্পাদক তামজিদ হায়দার চঞ্চল। সমাবেশে স্বারকলিপি পাঠ করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মিখা পিরেগু।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেড় বছর সশরীরের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেয়া হয়েছে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। করোনার শুরু থেকেই ছাত্র ইউনিয়ন দাবি জানিয়ে এসেছে এই সময়কালে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন মওকুফ করার। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে এই দাবিকে সামনে রেখে ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানায় ও সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে সভা-সমাবেশ করে আসছি আমরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বারংবার এই দাবি জানালেও তারা কর্ণপাত করেনি। আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম, উল্টো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সঙ্গেই নানা আলাপ শুরু হলো যে কী প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করা যায়। শিক্ষামন্ত্রীর তরফ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি টিউশন ফি’তে ছাড় দেয়ার আহবান জানানো হলেও, মওকুফের জন্য কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তাই অবিলম্বে আমাদের তিন দফা দাবি মেনে নিতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রনেতা জহরলাল রায় বলেন, “করোনা মহামারীর কারণে বাংলাদেশের ৩ কোটি শিক্ষার্থী যে অপরিসীম ক্ষতির সম্মুখীন হলো, তা থেকে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, এবারের জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে আমাদের দাবিকে আমলে নেয়া হবে। বাজেটের পূর্বে বারবার দাবি নিয়ে রাজপথে উপস্থিত থাকলেও আমরা দেখলাম, সরকার বরাবরের মতোই তার নিয়মিত প্রবৃদ্ধির হারেই শিক্ষাবাজেট পেশ করলেন। যেখানে করোনাকালে শ্রমজীবি মানুষের নতুন করে আয় কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ, সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে করোনাকালীন পুরো সময়ের টিউশন ফি আদায় করা সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তে না আসতে পারা সরকারের চূড়ান্ত ব্যর্থতার আরও একটি উদাহরণ। এরকম অবস্থায় আমরা মনে করি, সারা দেশের শিক্ষার্থী সমাজকে একত্রিত করে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায়েই এই সংকট নিরসন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। করোণাকালে শিক্ষার্থীদের বেতন-ফি মওকুফ ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতার জন্য বিশেষ প্রণোদনার দাবিতে সারা দেশব্যাপি ইতমধ্যেই একটি আন্দোলন গড়ে উঠেছে। আমরা আশা করি ও বিশ্বাস করি, সারাদেশের সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ বরাবরের মতোই এই যৌক্তিক দাবির পক্ষে মাঠে নামবে এবং এই অবিচারের বিরুদ্ধে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন ভূমিকা পালন করবে।”

সবাবেশের পরে টিএসসি থেকে একটি মিছিল শাহবাগ হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিন করে। মিছিল শেষে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট তিন দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

শেয়ার করুন