ডেস্ক রিপোর্ট

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

সেশনজটের জন্য ফেসবুকে লেখালেখি করায় কুবির ৪০ শিক্ষার্থীকে নোটিশ

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: নিজেদের সেশনজট নিরসনে আন্দোলন, ফেসবুকে লেখালেখি করায় ৪০ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিভাগীয় প্রধান স্বাক্ষরিত ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সব শিক্ষার্থীকে এ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চার বছর ৯ মাসে মাত্র ৫ম সেমিস্টারের পরীক্ষা দিচ্ছেন। যেখানে একই ব্যাচের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৮ম সেমিস্টারের পরীক্ষা দিচ্ছেন।

বিভাগীয় প্রধান মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, আপনারা বিভাগীয় ৪র্থ ব্যাচ, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা গত ১ সেপ্টেম্বর তারিখ ও তৎপরবর্তী সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফেসবুকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও বিভাগীয় শিক্ষকদের নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তি ও বিব্রতকর মন্তব্য করেছেন। এমনকি শিক্ষকের সঙ্গে আপনাদের একাডেমিক অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ভাষ্য উন্মুক্তভাবে উপস্থাপন এবং স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এটি আপনারা করতে পারেন কি না সে বিষয়ে বিভাগ জানতে চায়।

নোটিশে আরো বলা হয়, বিভাগীয় শিক্ষকরা অবশ্যই শিক্ষার চলমান অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভাগ একাডেমিক বিষয়ে তৎপর। তথাপি আপনাদের এ ধরনের অশোভন আচরণে বিভাগ মর্মাহত। তা ছাড়া বিভাগীয় একাডেমিক বিষয় নিয়ে আপনারা বিভাগীয় ছাত্র-উপদেষ্টা ও বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনা ব্যতিরেকে বিভাগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সরাসরি উপাচার্য মহোদয়ের শরণাপন্ন হয়েছেন। আপনাদের এ ধরনের আচরণ বিভাগীয় শৃঙ্খলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধিকে লঙ্ঘন করেছে। আলোচিত বিষয়ের প্রেক্ষিতে আপনাদের সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের জন্য বিভাগীয় একাডেমিক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হলো। পত্র প্রাপ্তির ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে জবাব প্রদানের জন্য আপনাদের নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

তবে ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, বিভাগের সেশনজট নিয়ে কথা বলায় এবং পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ায় এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, যে আন্দোলনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ছিল, শুধু আমাদের বিভাগই ছিল এমন না। এ জন্য সবাই মিলে উপাচার্য স্যারের কাছে গিয়েছি। সেখানে উপাচার্য মহোদয় একটা সমাধান দিয়েছেন, আমরা তা মেনে নিয়েছি। এখন এই নোটিশ দেওয়ায় আমরা হতাশ।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এমনিতেই ভয়াবহ সেশনজটের কবলে ছিলাম। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়াতে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। এখন এই নোটিশ পেয়ে আমরা ভয়ে আছি। আমাদের পরীক্ষা চলছে এর মধ্যে এ নোটিশে আমরা মানসিক চাপে আছি। আমরা আশঙ্কা করছি আমাদের ফলাফলে এর প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, বিভাগের শিক্ষা সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এবং করোনাকালীন অচলাবস্থায় যে সেশন জ্যাম তা নিয়ে ছাত্রদের মনে অসন্তোষ থাকতেই পারে। ছাত্ররা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে তা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু এটাকে প্রেক্ষিত করে কোনো শিক্ষককে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করলে সে শিক্ষক ছোট হয়, বিভাগও ছোট হয়। পাশাপাশি ওই বিভাগের ছাত্ররাও কিন্তু ছোট হয়। তারা বিভাগের সমস্যা নিয়ে প্রথমে ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলবে এটাই শোভন এবং উচিত। বিভাগের শিক্ষক যদি সমাধান এবং সদুত্তর দিতে না পারে তখন বিভাগের সভাপতি তাদের প্রস্তাব করবে যে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বারবার এই একটা ব্যাচের তত্ত্বাবধানে তারা বিভাগের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা না করেই নানা সময় এই উদ্যোগ নিচ্ছেন যেটা বিভাগকে বিব্রত করছে। বিভাগ জবাব দেবে যে কেন পরীক্ষা নিতে পারছে না, এটা তো আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় জবাব দিতে পারবে না। এ বিষয়ে তাদের চিঠি দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের এ বিষয়ে সতর্ক করা তারা এটা সত্যিকার অর্থেই মনে নেয়া যে এ কাজটা করা ঠিক হবে না।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট স্নাতকের আটকে থাকা পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে দ্রুত সময়ের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দেন। সে আন্দোলনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ও অংশ নেয়।

সার্বিক জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, আমি এ বিষয়টি নিয়ে বিভাগের সঙ্গে কথা বলব।

শেয়ার করুন