ডেস্ক রিপোর্ট

১৯ এপ্রিল ২০২১, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে বগুড়ায় বাম জোটের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১৯, ২০২১ ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি:: বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে, শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ী মালিক, পুলিশ, আনসারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, শ্রমিক হত্যার দায়ে এস আলম গ্রুপের সাথে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি বাতিল করার দাবিতে বগুড়ায় বাম জোটের বিক্ষোভ।

আজ সোমবার (১৯ এপ্রিল’২১) সকাল সাড়ে ১১ টায় বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলার উদ্যোগে শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলা সমন্বয়ক, সিপিবি সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, সঞ্চালনা করেন বাসদ জেলা সদস্য সচিব সাইুফুজ্জামান টুটুল, সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক
আমিনুল ফরিদ, বাসদ জেলা সদস্য মাসুদ পারভেজ, সিপিবি জেলা সহ সম্পাদক হাসান আলী শেখ, সিপিবি জেলা সদর সভাপতি সন্তোষ কুমার পাল, বাসদ জেলা সদস্য দিলরুবা নূরী প্রমুখ।

সমাবেশের সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, “চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে গতকাল এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এস এস পাওয়ার প্লান্টের শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ ন্যায়সংগত ১০ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বিনা উসকানীতে মালিকের নির্দেশে পুলিশ, আনসার, সিকিউরিটি ও সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে ৫ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি ছিল মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, রোজায় বিকেল ৫টার মধ্যে ছুটি দেয়া এবং ইফতারের বরাদ্দ দেয়া ইত্যাদি যা ছিল অত্যন্ত যৌক্তিক। ঐ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের শুরুতেও ফসলী জমি অধিগ্রহণ করার বিরুদ্ধে স্থানীয় অধিবাসীরা বিক্ষোভ করলে ২০১৬ সালেও গুলি করে ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। ঐ হত্যাকা-ের বিচার হয়নি, সেই হত্যার বিচার হলে হয়তো আজ পুনরায় হত্যাকা- সংঘটিত নাও হতে পারতো।”

অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, “এস আলম গ্রুপ শ্রমিকের পাওনা দিতে পারে না অথচ দানবীর সেজে পটিয়া উপজেলায় ৮৫ মসজিদে ২০ কোটি টাকা এবং ৩০ মাদ্রাসায় ১০ কোটি টাকা দান করে বাহবা কুড়িয়েছে। এই লুটেরা গ্রুপ রাষ্ট্র ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ৭টি বেসরকারি ব্যাংক ও কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল দখল করেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পুঁজিবাদী শোষণমূলক রাষ্ট্রে শ্রমিককে শোষণ করেই মালিক শ্রেণি ফুলে ফেঁপে ওঠে আর রাষ্ট্র, সরকার তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।”

সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন- বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ী মালিক কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, আনসার, সিকিউরিটিগার্ডদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাওনা পরিশোধ না করে গুলি করে শ্রমিকদের হত্যার দায়ে এস আলম গ্রুপের সাথে স¤পাদিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি বাতিল করতে হবে। নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় খরচে সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসন করতে হবে। করোনা লকডাউন চলাকালে শ্রমজীবী হতদরিদ্র সকলকে এক মাসের খাদ্য, নগদ ৫ হাজার টাকা এবং বিনামূল্যে করেনানা টেস্ট, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দিতে হবে।

শেয়ার করুন