ডেস্ক রিপোর্ট

৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

‘উল্টাপাল্টা’ কথা না বলতে জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে অনুরোধ মির্জা ফখরুলের

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে বিভ্রান্তকর ও উল্টাপাল্টা কথাবার্তা না বলতে অনুরোধ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরস্থ কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ অনুরোধ জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র মেনে তারেক রহমানকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া জেলে থাকায় তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দলের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দলের মধ্যে থেকেই বিভিন্ন পদে ধারাবাহিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। নির্বাসনে থেকেও তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, দলকে সুসংগঠিত করছেন। তাই দলের নেতৃত্ব নিয়ে কোন প্রশ্নই আসে না। তিনিই আমাদের দলের নেতা। তার নেতৃত্বেই আগামীতে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালিত হবে।

জিয়াউর রহমানের কবর প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এ ইস্যুটিই একটি কুরুচিকর ও অরাজনৈতিক ইস্যু। শাহাদত বরণের পর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানেই তাকে দাফন করা হয়েছে। এটি নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠতে পারে না। এ বিষয়টি ধ্রুবতারার মতো সত্য। লুই আই কানের নকশাটি ছিল পাকিস্তানি আমলের। এ নকশাটি উপর থেকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন এখানে পাকিস্তানের পতাকার চাঁদ তারার নকশা রয়েছে। আইয়ুব খানের আমলে এটাকে সেকেন্ড ক্যাপিটাল করার চিন্তা ধারা ছিল। এর পরেতো অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গণভবন, স্পিকারের ও ডেপুটি স্পিকারের বাসা তৈরি হয়েছে। মেট্রো রেলের বিশাল একটা অংশ এতে ঢুকেছে। দেশের জনগণকে ভিন্ন পথে পরিচালনা করতেই শহীদ জিয়ার কবর নিয়ে ইস্যু তৈরি করছে সরকার। করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, ডেঙ্গুতে ব্যর্থ, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। মানুষের আসল সমস্যা নিয়ে মনোযোগ না দিয়ে জনগণের চিন্তাভাবনাকে ভিন্ন পথেই পরিচালনা করছে তারা।

বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলের কথা হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদত বরণের পর অনেকেই মনে করেছিল বিএনপির অবস্থা বোধ হয় শেষ। কিন্তু বিএনপি উঠে দাঁড়িয়েছিল এবং তিন তিনবার রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে। গত ১২ বছর ধরে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের যে অর্জন ছিল আওয়ামী লীগ সরকার তা নষ্ট করেছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, সকল ধরনের নির্বাচনের ওপরে দেশের মানুষের আস্থা উঠে গেছে। বিগত সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই আমরা এর প্রতিফলন দেখেছি। গণতন্ত্রের প্রথম যে স্তম্ভ, সেটিকেই সরকার অবৈধভাবে নিজেদের মতো করে পরিচালনা করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথা শুনলে মনে হয় তিনি সরকারের সকল চাওয়া পাওয়া, আদেশ নিষেধ মানার জন্যই বসে রয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা যাব কিনা দলগতভাবে আমরা সে সিদ্ধান্ত এখনো নিইনি।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, সহ সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন