ডেস্ক রিপোর্ট
২৭ আগস্ট ২০২১, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ১৫% কর বাতিল, দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনের আওতাভুক্ত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা, করোনাকালীন বেতন-ফি মওকুফ, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে শিক্ষাবৃত্তি ও রেশনিং এর ব্যবস্থাকরা, হেলথকার্ড নিশ্চিত করাসহ ৬দফা দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন,বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ শুক্রবার (২৭ আগস্ট ২০২১) বিকাল ৩ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন,বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের আহবায়ক সৈয়দ মেহেরাজ কবিরের সভাপতিত্বে ও সদস্য শাওন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু , বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সদস্য মুক্ত রেজোয়ান, সদস্য হাসান ওয়ালী, সদস্য ওয়ালিদ হাসান লাবু সদস্য রাকিব হাসান সুজনসহ প্রমুখ।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু বলেন, ‘করোনার সময়ে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এর মাঝেই আমরা দেখতে পেয়েছি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনলাইন ক্লাসের আয়োজন। আমরা বলেছি আমাদের দেশের সকল শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক কাভারেজে নাই, সকল শিক্ষার্থীর অনলাইন ক্লাস উপযোগী ডিভাইস নাই। আমরা সব সময় বলেছি শিক্ষার আর্থিক দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। সরকার চাইলে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের জন্য করোনাকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারতেন। ‘আমরা বলতে চাই শিক্ষার্থীদের করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। অবিলম্বে করোনার সময়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতন ফি মওকুফ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন ঝরে না পরে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যয় এবং শিক্ষকদের বেতনাদির দায়ভার সরকার বহন করতে হবে। দ্রুত উচ্চ মাধ্যমিক (এইচ.এস.সি) পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া আটকাতে শিক্ষাবৃত্তি ও রেশনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা যে ৬ দফা দাবি জানিয়েছি সেটি আপামর ছাত্রসমাজেরই দাবি বলেই আমরা মনে করি। আমাদের দাবি মানা না হলে ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।’
সভাপতির বক্তব্য বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন,বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের আহবায়ক সৈয়দ মেহেরাজ কবির বলেন, ২০১৫ সালে সরাসরি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাট প্রদানের কথা বলা হয়েছিলো। এবারো বেসরকারি শিক্ষা- প্রতিষ্ঠানের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে করের টাকা আদায়ের পায়তারা চালানো হচ্ছে। যা শিক্ষাকে পণ্যে রূপান্তর করার নীল নকশা।বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্হাকে পণ্যে রূপান্তর করার যে অপচেষ্টা তা রুখে দিয়ে ২০১৫ সালে সরকারকে ভ্যাট প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিলাম। এবারো পূর্বের মতোই আমরা বলতে চাই, শুধু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় যেখানেই শিক্ষাকে পণ্যে রূপান্তর করার নূন্যতম চেষ্টা চলবে সেখানেই আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এ স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে ” বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। যদি তাই হয় তবে কি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের মালিক পক্ষ মুনাফা অর্জন করে? ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী বলা চলে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মালিক পক্ষ যে মুনাফা অর্জন করছে তা সম্পূর্ণ রূপে অবৈধ। ১৫% করের মাধ্যমে সরকার ঐ অবৈধ মুনাফা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে এবং অবৈধ মুনাফাকে বৈধ করার চেষ্টা করছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি শিক্ষাখাতে প্রস্তাবিত বাজেট বিগত বাজেটের মোট জিডিপির তুলনায় ০.০৩৬% কমেছে। এই বাজেট কোনভাবেই শিক্ষাবান্ধব বাজেট হতে পারেনা ৷
অবিলম্বে ছাত্র স্বার্থ বিবেচনা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আরোপিত ১৫% কর বাতিলসহ ৬দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র স্বার্থ রক্ষায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।