ডেস্ক রিপোর্ট
১৮ আগস্ট ২০২১, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুসহ মোরাল পুলিশিং ও রাষ্ট্রীয় বাহীনির বেআইনী তৎপরতা বন্ধের দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আজ বুধবার, ১৮ আগস্ট বেলা ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শেষে রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক ছায়েদুল হক নিশান এর সভাপতিত্ব ও নগর শাখার সংগঠক রাবেয়া কণিকার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
সমাবেশে ছাত্র নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের চরম ব্যর্থতার বলি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা! করোনা নিয়ন্ত্রণে নেই কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য নেই কোন রোডম্যাপ। চারদিকে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষার প্রবল সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ঘুরাতে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেই চলছে মোরাল পুলিশিং। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বেআইনি অভিযান গণহয়রানির সুযোগ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া, মোরাল পুলিশিং বন্ধ ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বেআইনি তৎপরতা বন্ধের দাবিতে
সমাবেশে বক্তারা বলেন , করোনাকালে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধের বিষয়টি সরকারের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামগ্রিক ব্যার্থতার ফলাফল ৷ এই ব্যার্থতার বলি হয়েছে দেশের চার কোটি শিক্ষার্থী। অথচ এই সংকট থেকে উত্তরণে সরকার কোন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ উপস্থাপন করতে পারেনি।
সমাবেশে ছাত্র নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাকালে চরম রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি,অনিয়ম,অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে উঠার আশঙ্কা থেকেই পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার একই সাথে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে সরকার নিজ উদ্যোগে মোরাল পুলিশিং এর সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছে৷ যেকোন নাগরিকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যৌনতা, মাদকসহ তথাকথিত অভিযোগ এনে সমাজের প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তাগুলোকে উস্কে দেয়া হচ্ছে। আবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক সম্পূর্ণ বেআইনি কায়দায় অভিযান পরিচালনা, অভিযোগ প্রমাণের আগে অভিযুক্তকে অপরাধী হিসাবে মিডিয়ায় উপস্থাপন করা এবং এখতিয়ার বহির্ভূত তৎপরতা কার্যত দেশের আইনী প্রক্রিয়াকে তামাশায় পরিণত করেছে। এখানে আদলতে প্রমাণের আগেই রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে একজন নাগরিকের আইনী সুরক্ষা, সাংবিধানিক অধিকার ও হাইকোর্টের নির্দেশনার গুরুতর লংঘন করছে ৷ অথচ সরকারের সীমাহীন অপকর্মকে আড়াল করার স্বার্থে মোরাল পুলিশিং ও মিডিয়া ট্রায়ালের মত অগণতান্ত্রিক, বেআইনী কার্যক্রম চলছেই৷ আবার এর বিরুদ্ধে সচেতন লড়াইয়ের শক্তি যে ছাত্রসমাজ, তাদেরকেও বিচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে ৷
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া, মোরাল পুলিশিং ও মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে জনগণকে বিভক্ত করার ফ্যসিস্ট কায়দার বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার সচেতন লড়াইয়ের আহ্বান জানান।