ডেস্ক রিপোর্ট

১ আগস্ট ২০২১, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

প্রথম দিনে কাজে ফিরেছে ৭০ শতাংশের বেশি পোশাক শ্রমিক

আপডেট টাইম : আগস্ট ১, ২০২১ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: অনেক দুর্ভোগ পার হয়ে নারায়ণগঞ্জে কাজে যোগ দিয়েছেন ৭০ ভাগের বেশি পোশাক শ্রমিক। শিল্প পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিল্প পুলিশ-৪ এর পরিদর্শক (গোয়েন্দা) শেখ বশির উদ্দিন বলেন, আদমজী ইপিজেড, বিসিক শিল্পনগরীসহ মোট পোশাক কারখানা আছে ১৭৬৫। এর মধ্যে কারখানা চালু হয়েছে ১২০৪টি। কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের উপস্থিতি ৭০ শতাংশ।

শ্রমিকরা জানান তারা অনেক কষ্ট করে কাজে যোগ দিয়েছেন।

কারখানা থেকে ফোন পেয়ে লালমনিরহাট থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্য রওনা দেওয়া ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর একটি রফতানিমুখী গার্মেন্টসের শ্রমিক রিনা বেগম জানান, শনিবার বিকেলে রওনা দিয়ে নারায়ণগঞ্জে এসে পৌঁছান রোববার ভোরে। সকাল ৯টার মধ্যে তাকে কাজ যোগদান বাধ্যতামূলক করে কর্তৃপক্ষ।

ফতুল্লা বিসিকের ৩ নম্বর গেটে কথা হয় রিনার সাথে। তিনি বলেন, ‘কষ্ট আর অবর্ণনীয় দুর্ভোগের বিষয়ে কথা বলে শেষ করা যাবে না। ভেবেছিলাম ৫ আগস্ট গার্মেন্টস খুলবে তাই একটু নিশ্চিন্ত ছিলাম। হঠাৎ শনিবার সকালে গার্মেন্টস থেকে ফোন রোববার কাজে যোগদান করাই লাগবে। কি আর করা। কিছু পথ হেঁটে, কিছু পথ ভ্যানে করে, বাকী পথ একটি মালবাহী ট্রাকে করে নারায়ণগঞ্জে এসেছি। আমার মতো আরো ২০/২৫ জন ছিল সবাই একসঙ্গে আসি’।

পেটের দায়ে সব কষ্ট হজম করে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ভোগান্তি ও তিন গুণের বেশি বেশি ভাড়া দিয়ে নারায়ণগঞ্জের পোশাক শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন বলে অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে বিসিক শিল্পনগরীতে গিয়ে দেখা যায় রবিবার সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত শত শত শ্রমিক বিভিন্ন কলকারখানায় তার কর্মস্থলে ফিরছেন। তাদের কারো মুখে হাসি নেই। রয়েছে রাগ ক্ষোভ আর বিষন্নতার ছাপ।

গার্মেন্টস শ্রমিক আকলিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের শ্রম আর ঘামে গার্মেন্টস চলে। অথচ মালিকরা আমাদের মনে করে না। যে কষ্ট করে মাদারীপুর থেকে এসেছি এটা বলতে গেলে আরো কষ্ট বাড়বে’।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক ছাড়াও আদমজী ইপিজেড, কাঁচপুর শিল্পনগরী, রুপগঞ্জসহ বিভিন্ন শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন।

শিবু মার্কেট এলাকায় কথা হয় গার্মেন্টসের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে।

অমল সেন নামে ওই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘এরকম পরিস্থিতি মালিকরা তৈরি না করলেও পারতো। ১ আগস্ট গার্মেন্টস খুলে দেবে এটা আগে জানালে এত হয়রানি আর দুর্ভোগের শিকার হতে হতো না। করোনার ভয় অনেক আগেই চলে গেছে এখন ভয় চাকরি হারানোর’।

ফকির অ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিক দেওয়ান আবু তাহের বলেন, ‘শনিবার সকালে রওনা দিয়ে রাত ৩টার দিকে ছোট ছোট যানবাহনে ভেঙে ভেঙে কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জে এসেছি। বাড়ি থেকে নারায়ণগঞ্জে আসতে খরচ হয়েছে তিন হাজার টাকা।’

কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান রোববার সকালে বলেন, দূরপাল্লার কিছু যাত্রীবাহী বাসে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ফিরছেন। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ একেবারে কম।

শেয়ার করুন