ডেস্ক রিপোর্ট
৩১ জুলাই ২০২৫, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: সংবিধানের বিদ্যমান চার মূলনীতি বাদ দেওয়ার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বৈঠক ‘বর্জন’ করেছে বাম ধারার চারটি দল।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে দলগুলোর নেতারা বলেছেন, জাতীয় সনদে তারা স্বাক্ষর করবেন কি না তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজনীতির ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসে ঐকমত্য কমিশন।
রাতে বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহীন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বাসদ মার্কসবাদীর সমন্বয়ক মাসুদ রানা।
পরে তারা সংবাদ সম্মেলনে এসে বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখায় করে তারা বলেন, ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের বিদ্যমান চার মূলনীতি বাদ দিয়ে নতুন মূলনীতি সংযোজনের প্রস্তাবে দিয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, এর পক্ষে তাদের সমর্থন না থাকলে ভিন্ন মত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে পারেন।
তাদের বলেন, চার মূলনীতি বহাল রেখে নতুন বিষয়গুলো সংযোজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বর্তমান বাংলাদেশ সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ রয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এর বদলে পাঁচটি মূলনীতি সুপারিশ করছে। সেগুলো হল–সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি।
বামপন্থী দলগুলো বিদ্যমান মূলনীতির সঙ্গে কমিশন প্রস্তাবিত নতুন মূলনীতি যোগ করার পক্ষে, কোনো কিছু বাদ দেওয়ার পক্ষে তারা নয়।
আর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া ‘আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ রাখার কথা বলে আসছিল। তবে কমিশন এখন যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে তাদের আপত্তি নেই।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি বলেছে, কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে তারা একমত।
তার আগে রোববার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ঊনবিংশতম দিনে রাষ্ট্রের মূলনীতি পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের এক পর্যায়ে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়।
সে দিন মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বেরিয়ে এসে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “সংবিধানের মূলনীতির প্রশ্নে ঐকমত্য হওয়া সম্ভব না। কারণ এখানে বিভিন্ন আদর্শের মানুষ আছে। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে যাবে, তারা সিদ্ধান্ত দেবে।
“মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের এই সংবিধান অনেক অসম্পূর্ণতা আছে। সেজন্য আমরা আলোচনা করছি, যাতে সম্পূর্ণ করা যায়। কিন্তু মূলনীতির প্রশ্নে ছাড় দেওয়া সম্ভব না।”
বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরে প্রিন্স বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি প্রসঙ্গে এইভাবে লেখা যেতে পারে। সংবিধানে রাষ্ট্রীয় পরিচালনার চার মূলনীতির সঙ্গে (৭২ এর সংবিধান অনুযায়ী- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র,গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা) সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি যুক্ত করা যেতে পারে।”
প্রিন্সের ভাষ্য, “মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধানে যে চার মূলনীতি আছে, জোর করে শব্দের মারপ্যাঁচে সেটা পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত যদি জাতির সামনে প্রকাশিত হয়, সেটার সঙ্গে আমরা একেবারেই নেই।
“এইরকম অবস্থা যদি চলতে থাকে, আমাদের পক্ষে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা নিয়মিত করা সম্ভব হবে না। একইসঙ্গে যে ঐকমত্য গঠনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে একমত হচ্ছি, সেটাও বাধাগ্রস্ত হবে। কমিশনের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।”