ডেস্ক রিপোর্ট
১২ মে ২০২৫, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বাসদ (মার্কসবাদী)’-এর উদ্যোগে আজ ১২ মে, সোমবার, ২০২৫ বিকাল ৫ টায় ‘ঢাকার প্রেসক্লাবে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সমাবেশ থেকে দাবি জানানো হয় অবিলম্বে জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। আরও দাবি জানানো হয় গণতান্ত্রিক সংস্কার সম্পন্ন করে অনতিবিলম্বে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। সমাবেশ থেকে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামকে বেগবান করার আহ্বান জানানো হয়।
‘বাসদ (মার্কসবাদী)’-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য কমরেড রাশেদ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ‘বাসদ (মার্কসবাদী)’-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য কমরেড জয়দীপ ভট্টাচার্য এবং কমরেড রাজু আহমেদ।
কমরেড জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, “দেশের প্রশাসন, আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ দলীয়করণমুক্ত হবে এটাই অভ্যুত্থানের চাওয়া ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই প্রত্যাশিত সংস্কারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। সংস্কার এবং নির্বাচনকে বিরোধী বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা ঠিক নয়। সংস্কারের বিষয়ে সরকার আন্তরিক এটা সরকারকে প্রমাণ করতে হবে। নির্বাহী আদেশে যেসব সংস্কার করা সম্ভব সেগুলো যথাসম্ভব দ্রুত শেষ করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ী এবং সামরিক-বেসামরিক আমলাদের স্বার্থ নয়, শ্রমিক-কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করবে এটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এই সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেশের অধিকাংশ মানুষের ন্যায্য দাবির বিরুদ্ধে যাচ্ছে- এ সকল বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা দরকার।”
কমরেড মাসুদ রানা বলেন,“দ্রুত জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বিচার সম্পন্ন করে শাস্তি কার্যকর করতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। বিচারের বিষয়ে যে সংশয় জনমনে আছে, সেটা অমূলক নয়। নীতিনির্ধারণের সাথে যুক্ত নেতাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া, ঢালাওভাবে দেয়া হত্যা মামলা, দুর্বল মামলা, তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা – সব মিলিয়ে বিচারের ব্যাপারে মানুষের আস্থা কমেছে। সরকারের উচিত বাগাড়ম্বর না করে যে সকল অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে তা খতিয়ে দেখা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।”
তিনি আরও বলেন, “নারী সংস্কার কমিশন, শ্রম সংস্কার কমিশন সহ বিভিন্ন সংস্কার কমিশনগুলোর প্রস্তাবনায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। নারী-পুরুষের সমতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই মত প্রকাশ, মিটিং-মিছিল ও সমাবেশের অধিকার হরণ করা যাবে না। ন্যায়সঙ্গত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। মৌলিক অধিকারকে আইন দ্বারা বলবৎ করতে হবে। কালো টাকা ও পেশিশক্তি মুক্ত নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ কোনো একটা দল আনে না, আনে একটা ব্যবস্থা। গত ৫৪ বছর ধরে বিদ্যমান ব্যবস্থাটা একটা পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই সাধারণ মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই ব্যবস্থা পরিবর্তন ছাড়া বৈষম্য এবং ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। তাই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের জন্যে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইকে শক্তিশালী করুন।