ডেস্ক রিপোর্ট
১ নভেম্বর ২০২৩, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বিএনপি অভিযোগ করেছে, আওয়ামী লীগ এবং পুলিশ-র্যাব ও বিজিবির একটি অংশ বিএনপির নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালাচ্ছে। তারাই আগুন–সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে এবং একের পর এক যানবাহন ও স্থাপনা পোড়াচ্ছে। তাদের লক্ষ্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা করে গ্রেপ্তার ও সাজা দেওয়া।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব অভিযোগ করেন। গত শনিবারের মহাসমাবেশ, রোববারের হরতাল ও আজ সারা দেশে অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, গ্রেপ্তারসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। অজ্ঞাত স্থান থেকে অনলাইনে এই সংবাদ সম্মেলন করেন রিজভী।
রিজভী দাবি করেন, মহাসমাবেশ, হরতাল ও আজকের অবরোধ কর্মসূচি কেন্দ্র করে বিএনপির সাত নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দলের আক্রমণে গত চার দিনে ৩ হাজার ৩৫০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। নতুন করে ৪৬টি মামলায় ২ হাজার ২৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর শনিবারের মহাসমাবেশ কেন্দ্র করে গত ছয় দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। এ সময় নতুন করে ৭১টি ‘মিথ্যা’ মামলা করা হয়েছে।
বিএনপির চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অস্ত্রসজ্জিত পুলিশ তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, এটি কোনো সংঘর্ষ নয়, সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। লাখ লাখ গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে মুষ্টিমেয় কিছু অস্ত্রধারীর এই মানবাধিকার লঙ্ঘন দেশে-বিদেশে ধিক্কৃত। বিএনপির নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালাচ্ছে পুলিশ-র্যাব ও বিজিবির একটি অংশ। আফগানিস্তানের যুদ্ধক্ষেত্রের মতো নির্বিচার গুলি, টিয়ার গ্যাসের শেল, লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেডসহ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করছে তারা।
এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের সঙ্গে সরকারি দলের যুক্ত হওয়ার অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী স্টিলের পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএনপির নেতা–কর্মীদের আঘাত করছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এক দফার আন্দোলনে ৭২ ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিনে পুলিশের হামলায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ছাত্রদল নেতা রেফায়েত উল্লাহ ও কৃষক দল নেতা বিল্লাল মিয়া এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা দিলু আহমেদ নিহত হয়েছেন।