ডেস্ক রিপোর্ট
২৯ মে ২০২৩, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ গণমানুষের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি আমৃত্যু অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল ছিলেন। তিনি ছিলেন সততা ও আদর্শনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আবু জাফর আহমদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার বিকেলে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেছেন সিপিবির নেতারা।
সিপিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। স্মরণসভায় সিপিবি নেতারা বলেন, আবু জাফর আহমদ ছিলেন সততা ও আদর্শনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, স্বাধীন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং তেল-গ্যাসসহ জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সাম্রাজ্যবাদ নানাভাবে দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে উল্লেখ করে সিপিবি নেতারা বলেন, দেশ ও মানুষ বাঁচাতে দুঃশাসন হটাতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্ত রুখে দিতে হবে। এ জন্য গণ-আন্দোলন জোরদার করতে হবে। জনগণের লড়াইয়ের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী সরকারকে নতি স্বীকারে বাধ্য করে নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে।
আজকের স্মরণসভায় বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স), সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাজ্জাদ জহির ও লক্ষ্মী চক্রবর্তী। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ।
উল্লেখ্য, আবু জাফর আহমদ ২০১৯ সালের ২৮ মে মারা যান। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। এ জন্য একাধিকবার তাঁকে গ্রেপ্তারের শিকার হতে হয়।