ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ এপ্রিল ২০২৩, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

রানাপ্লাজা ধ্বসের ১০ বছরে নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের মিছিল

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৪, ২০২৩ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: রানাপ্লাজা ধ্বসের ১০ বছর পূর্তিতে রানাপ্লাজাসহ কারখানা ভবস ধ্বস ও অগ্নিকা-ের জন্য দায়ী মালিক এবং সরকারি তদারককারী কর্মকর্তাদের শাস্তি, আইএলও কনভেনশন ১২১ ধারা মোতাবেক আজীবন আয়ের মানদ-ে ক্ষতিপূরণ আইন করা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ২৪ এপ্রিলকে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণার দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক প্রদীপ সরকার, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার সহসভাপতি আনোয়ার খান, গাবতলী পুলিশ লাইন শাখার সহসভাপতি
মোফাজ্জল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ রাতুল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ ২৪ এপ্রিল রানাপ্লাজা ধসের ১০ বছর পূর্ণ হলো। রানাপ্লাজা ধসে ১১৩৬ জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করে। নেতৃবৃন্দ রানা প্লাজা ধসে শ্রমিকের মৃত্যুকে মালিকের অবহেলা জনিত হত্যাকা- আখ্যা দিয়ে বলেন, মানুষের প্রত্যাশা ছিল এঘটনার পরে আর কোন শ্রমিক মালিকের অতি মুনাফার লোভে নির্মম মৃত্যুর শিকার হবে না। কিন্তু এ মর্মান্তিক ঘটনায় মালিক ও সরকারের কোন শিক্ষা হয়নি। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এখনও কারখানায় অগ্নিকা-ে, বয়লার বিষ্ফোরণে শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে। মৃত্যু হলে শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ মাত্র ২ লাখ এবং মালিক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের শাস্তির কোন যথাযথ আইন নেই। শ্রম আইন সংশোধন করে আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী আজীবন আয়ের মানদন্ডে ক্ষতিপূরণ আইন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, রানা প্লাজা ভবনে ৫টি গার্মেন্টস ছিল। ভবন নির্মাণে ও গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা-পরিচালনায় সরকারি তদারকি সংস্থা আছে। রানা প্লাজা ভবন মালিক জেলে থাকলেও কোন গার্মেন্টস মালিক বা সরকারি তদারকি সংস্থার কেউ কারাগারে নেই। ভবন মালিক ছাড়া আসামি সকলে জামিনে আছে। বিচার কাজে দীর্ঘসূত্রিতা চলছে। অতীতে ভবন ধস বা অগ্নিকা-ের ঘটনায় কারো শাস্তি হয়নি। সরকার ও মালিকরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে একদিন রানা প্লাজার ঘটনা ও বিচার কাজও কালের ¯্রােতে ভেসে যাবে। নেতৃবৃন্দ রানাপ্লাজা, তাজরীন গার্মেন্টস, টাম্পাকো ফয়েলস, সেজান জুস, বি এম কন্টেইনার ডিপোসহ সমস্ত ভবন ধস ও অগ্নিকা-ের জন্য মালিকের অতিমুনাফা লোভ, সরকারি তদারকি সংস্থার দ্বায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন এবং এর জন্য প্রয়োজনে
আইন সংশোধন করার কথা বলেন।

শেয়ার করুন