ডেস্ক রিপোর্ট
৮ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল-২০২৩’ পাস হলে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা খাতে ধর্মঘট করলে ৬ মাসের কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস।
এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, এটি আইনে পরিণত হলে পরিষেবা খাতের সাথে যুক্ত শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে আইন অনুযায়ী ধর্মঘট ডাকতে পারবে না। অথচ বাংলাদেশ শ্রম আইনে ধর্মঘট করার অধিকার প্রদান করা হয়েছে। শুধু তাই দাবি আদায়ে শ্রমিকদের ধর্মঘট করার অধিকার আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। পরিষেবা আইনের মাধ্যমে সরকার শ্রমিকদের ধর্মঘট ও ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার সংকুচিত করতে চায়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই আইনের মাধ্যমে জনস্বার্থের অজুহাত তুলে যে কোন খাতকে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত করার নিরঙ্কুস ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রচলিত শ্রমআইনের সাথে এই বিল যেমন সাংঘর্ষিক তেমনি এই অগণতান্ত্রিক বিলের মাধ্যমে শ্রমিকদের রক্তঝরা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত অধিকারকে হরণ করা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ চরম স্বৈরচারী মনোভাবে প্রকাশ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে সরকার গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের অধিকার হরণ করে শ্রমিকদের দাবি ও অধিকার আদায়ে শ্রমআইন স্বীকৃত ধর্মঘটের অধিকার হরণ করে শ্রমিকদের নির্জীব প্রাণীতে পরিণত করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। সরকার শ্রমআইন ও শ্রমবিধি সংশোধন করে ধারাবাহিকভাবে শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকারকে সংকোচিত করছে, অংশগ্রহণকারী কমিটিকে ট্রেড ইউনিয়নের বিকল্প হিসেবে সামনে ট্রেড ইউনিয়নকে ধ্বংস করা এবং ইপিজেডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ করে শ্রমিকদের কন্ঠরোধ করতে চাইছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন বর্তমানে সময়ে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতিতে বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ মজুরির দাবিতে গার্মেন্টস, হোটেলসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকরা যখন আন্দোলন সংগ্রাম ও ধর্মঘট করার প্রস্তুতিতে আছেন তখন সরকারের ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে আইন করার উদ্যোগ মালিকদের স্বার্থ রক্ষা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এমতবস্থায় অর্জিত অধিকার রক্ষায় শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।