ডেস্ক রিপোর্ট

২২ মার্চ ২০২৩, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিং এর দাবিতে বগুড়ায় বাম জোটের বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : মার্চ ২২, ২০২৩ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি: রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জিনিস পত্রের দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং গ্রাম-শহরে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রেশনিং ও ন্যায্য মূল্যের দোকান চালুর দাবিতে-বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশহিসাবে বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ২২ মার্চ ২০২৩ বিকাল: ৫:০০ টায় সাতমাথায় বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেণ বাম গণতান্ত্রিক জোটের জেলার অন্যতম শীর্ষনেতা সিপিবি বগুড়া জেলা সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ্ ।

বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের বগুড়া জেলা নেতা , বাসদ বগুড়া জেলা আহ্বায়ক কমরেড অ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, সিপিবি বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড আমিনুল ফরিদ, সিপিবি বগুড়া জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার পাল, বাসদ বগুড়া জেলা জেলা সদস্য শ্যামল বর্মন, ধনঞ্জয় বর্মন প্রমূখ।

সমাবশেে কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ বলনে: সাধারণ মানুষের জীবন দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে চরমভাবে বিপর্যস্ত। অনেক আগেই ৬৪ শতাংশ মানুষ খাদ্য কিনতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ২৯ শতাংশ পরিবার তাদের সঞ্চয় ভেঙেছে। গত এক বছরে ১০ শতাংশ পরিবার তাদের সব সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছে। মানুষ টিসিবি’র পণ্য কিনতে ৫-৬ ঘণ্টা ট্রাকের সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে না পেরে মানুষের পুষ্টিহীনতা বেড়ে ইতিমধ্যে তা ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মানুষ তাদের খাদ্য তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই মাছ-মাংস, দুধ-ডিম বাদ দিয়েছে।

কমরেড কমরেড অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ-গ্যাস, পানির মূল্যও বাড়ছে। বাড়িভাড়া-গাড়িভাড়া বৃদ্ধিও থেমে নেই। বাড়ছে শিক্ষা ব্যয় ও চিকিৎসা খরচ। বাস্তবে, মূল্যবৃদ্ধির চাপে দেশের মানুষ দিশেহারা। এ রকম পরিস্থিতিতে সব চেয়ে বেশি ভোগান্তি বেড়েছে শ্রমজীবী, মেহনতি নিন্ম আয়ের গরিব মানুষের। সরকার যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা না রাখে তা হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি অবিলম্বে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান এবং সারা দেশে ন্যায্য মূল্যের দোকান খুলে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অন্যন্য নেতৃবৃন্দ বলেন: বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ৩০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। সোনালি ও কর্কসহ দেশি মুরগির দামও ৬০০ টাকার বেশি। গরু-খাসির মাংসের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে অনেক আগেই চলে গেছে। সস্তা মাছ হিসাবে পরিচিত পাঙ্গাস, তেলাপিয়ার দামও ২০০ টাকার উপরে। চাল-আটা, তেল-চিনি, ডাল-ময়দা, মশলাসহ কনফেকশনারি পণ্যের দামও ক্রমাগত বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কাঁচা তরিতরকারির দামও।

দ্রব্যমূল্যের এই পাগলা ঘোড়া কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার। মন্ত্রীরা বারবারই বলছে, রমজানে সব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। দেশে খাদ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তাই নয় বাজার সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

শেয়ার করুন