ডেস্ক রিপোর্ট
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ভাষার মাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিভি ধারভাষ্যকাররা আজ পায়জামা-পাঞ্জাবি পরেছেন। নারী সঞ্চালকের পরনে ছিল শাড়ি। একইভাবে ক্রিকেটারদের বাহুতে লিখা ছিল বাংলা বর্ণমালা।
বাংলাদেশের আতাহার আলী, শামীম আশরাফ চৌধুরী, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জীবন্ত কিংবদন্তি কার্টলি অ্যামব্রোস, দক্ষিণ আফ্রিকান এইচডি অ্যাকারম্যান, শ্রীলঙ্কার রোশান অভিসিংহের সাথে পায়জামা পাঞ্জাবি পড়ছেন সাবেক পাকিস্তানি টেস্ট ক্রিকেটার আমির সোহেলও।
একইভাবে দুপুর ও বিকেলে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে জার্সিতে বাংলা বর্ণমালা ‘অ, আ, ক, খ’ লেখা বাহুবন্ধনী পরিধান করে খেলেছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান।
তিনি কি জানেন, কেন এই বাংলা বর্ণমালা বাহুতে ধারণ করা? আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটাই বা কী? এখন যেটা আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস, সেই দিনটি মানে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যে বাঙালি জাতিসত্তার উন্মেষটা ঘটেছিল, রিজওয়ান কি তা জানেন?
মায়ের ভাষা বাংলায় কথা বলতে গিয়ে পাকিস্তানিদের পৈশাচিকতা ও বর্বরোচিত হামলায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বাররা শহীদ হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে কতটুকু ধারণা আছে রিজওয়ানের? উত্তরে জানা হলো, এসবের কিছুই জানেন না রিজওয়ান।
রিজওয়ানের ধারণা ছিল, আজ ১০ ফেব্রুয়ারি বুঝি কোনো উৎসব। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দুঃখিত। আমি আসলে জানি না, বাংলাদেশের জন্য আজ বিশেষ কোনো দিন কিনা। আমি শুভকামনা জানাই। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আজকের দিনটা সম্পর্কে অবগত নই।’
তিনি কেন আর্মব্যান্ড পরেছেন, সে সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই রিজওয়ানের। যেহেতু পুরো দল পরিধান করেছে, তাই তিনিও পরেছেন, এমনটাই জানালেন রিজওয়ান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সকলকে আমি আজকের দিনের শুভকামনা জানাই। সামনের জন্য শুভকামনা। দলের প্রত্যেকে আজ আর্মব্র্যান্ড পরেছিল তাই আমিও। এটা দলের চাহিদা ছিল, তাই আমিও পরেছি।’
তবে সাংবাদিকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কথা শুনে বলে উঠলেন, ‘আপনি যেটা বললেন, আজ বাংলা ভাষা দিবস। আমি এটা ভালোবাসি। কারণ আমি কিছু শব্দ শিখেছি, যেমন ভালোবাসা, কেমন আছো, ভালো মানুষ। আসলে আমরা যেখানে যাই, সেখানে কিছু শব্দ শিখি। যেমন শ্রীলঙ্কায় ‘আন্না’। আমি এসব জিনিস চেষ্টা করি।’
রিজওয়ান বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রচুর ভালোবাসা পাচ্ছি। কোচিং স্টাফ, ম্যানেজমেন্ট স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের থেকে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। পেশোয়ারে আমি যে ভালোবাসা পাই, তা আমি এখানে পাচ্ছি। যেটা আমি খুব উপভোগ করছি।’