ডেস্ক রিপোর্ট

১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ৬:১০ অপরাহ্ণ

‘৩০ বছরের বেশি কারও বাঁচার দরকার নাই’

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ১৫, ২০২২ ৬:১০ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের মরদেহ উদ্ধারের পর ধারণা করা হচ্ছিল তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তবে ৩৮ দিন তদন্তের পর ডিবি বলছে, প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেখে মনে হচ্ছে ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন। হতাশা থেকে তিনি এটি করতে পারেন বলে ধারণা করছে ডিবি। তবে এ বিষয়ে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি গোয়েন্দা সংস্থাটি

ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার করা হত্যা মামলাটি তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত কার্যক্রমের ৩৮ দিনের মাথায় এসে তারা বলছে, ফারদিন হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, হতাশা থেকে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

এই সম্ভাব্য ‘উপসংহারে’ পৌঁছানোর পেছনে যেসব কার্যকারণ ডিবি দেখাচ্ছে তার মধ্যে একটি হলো, মৃত্যুর আগে বিভিন্ন সময় বন্ধু-বান্ধবের প্রতি কিংবা পরিচিত সবার প্রতি ফারদিনের কিছু বার্তা। ডিবি পুলিশের দাবি, ফারদিনের ফেসবুক মেসেঞ্জার ঘেঁটে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে তিনি বন্ধুদের কাছে বেশ কিছু হতাশাজনক কথাবার্তা শেয়ার করেছেন। সেখানে তার কথা বলা দেখে মনে হয়েছে ফারদিন হতাশায় ভুগছিলেন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ডিবি প্রধান হারুন আর রশিদ। তিনি ফারদিনের ফেসবুক মেসেঞ্জারের কিছু বার্তা সাংবাদিকদের পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ফারদিন মৌ নামে এক বান্ধবীকে লিখেছেন ‌‘৩০ বছরের বেশি কারও বাঁচার দরকার নাই’। একজনকে লিখেছেন ‘যদি মারা যাই, বন্ধু সাজ্জাদ কষ্ট পাবে।’ আরেক বন্ধুকে লিখেছেন ‘কোনো এক শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবা কেউ আত্মহত্যা করেছে’।

ডিবি প্রধান বলেন, এমন একটি আত্মহত্যার কথা ফারদিন লিখেছিলেন এবং তিনি শুক্রবারই আত্মহত্যা করেছেন।

তদন্তে ফারদিনের মৃত্যুর যেসব ঘটনাক্রম পাওয়া যায় সে প্রসঙ্গে হারুন বলেন, নিখোঁজ হওয়ার আগে ফারদিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একা একা ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু তার সঙ্গে কেউ ছিল না, একা একাই ঘুরেছেন তিনি।

তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় করে ডেমরার সুলতানা কামাল সেতুর একপাশে যান ফারদিন। কিন্তু তিনি চনপাড়ার দিকে যাননি, সেখানে কোনো ঘটনাও ঘটেনি। ঘটনার পর ৩৮ দিন তদন্ত শেষে এটিকে আমরা সুইসাইডাল ডেথ বলছি। এ বিষয়ে বুয়েটের ৪০ জন শিক্ষার্থী এসে তিন ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা তার পরিবার, বন্ধু-আত্মীয়দের বলেছি, ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন।

ডিবি প্রধান বলেন, ফারদিন সেদিন রাতে বাবুবাজার ব্রিজ ও সুলতানা কামাল ব্রিজে যান। অথচ গত ২ বছরে তিনি একবারও এসব এলাকায় যাননি। ফারদিন ২ বছরে ৫২২টি মোবাইল নম্বরে কথা বলেছেন, আমরা সবার কাছে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি।

ফারদিন নিয়মিত বিভিন্ন উপন্যাস পড়তেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে নানা সময়ে জীবন নিয়ে হতাশার কথা বলেছেন ফারদিন।

মরদেহ সম্পর্কে ডিবির তদন্তে কী এসছে? এ প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ফারদিনের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না, ধস্তাধস্তিরও আলামত নেই। তার মোবাইল-টাকা পকেটে ছিল। হাতে ঘড়ি ছিল। কোনোকিছু খোয়া যায়নি। বুয়েটের ৪০ শিক্ষার্থীও এসব আলামত দেখে একমত পোষণ করেছেন।

ডিবিপ্রধান বলেন, ফারদিন আত্মকেন্দ্রিক ছিলেন। তার রেজাল্ট ক্রমাগত খারাপ হচ্ছিল, কিন্তু কাউকে কিছু বলেননি। ফারদিন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘৯৫ ভাগ মানুষের জীবন পরিবার দ্বারা সীমাবদ্ধ।’ হয়তো পরিবার তাকে বাসায় থাকতে বলতেন, কিন্তু তিনি চাচ্ছিলেন না। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই এখানে হত্যার কোনো লক্ষণ নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, আমরা গতকালই তার পরিবারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। কোনো মানুষ যদি দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করে সেখানেও তো কেউ সাক্ষী থাকে না। এখানেও এমনটা হতে পারে। পারিপার্শ্বিক বিষয় দেখে মনে হয়েছে, তিনি আত্মহত্যা করবেন সিদ্ধান্ত নিয়েই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সব মিলিয়ে আমরা এ সিদ্ধান্তে এসেছি।

কারাগারে বন্দি ফারদিনের বান্ধবী বুশরার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, এটি আদালতের বিষয়, আমরা আমাদের রিপোর্টে জানিয়ে দেবো তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

শেয়ার করুন