ডেস্ক রিপোর্ট
২৬ অক্টোবর ২০২২, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের এক আলোচনা সভা ২৪ অক্টোবর সোমবার সকাল ১১টায় ২২/১ তোপখানা রোডস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।’
ফ্যাসিবাদী শাসন উচ্ছেদের পথ : নির্বাচন নয় গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিম। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্ট সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি হাসিবুর রহমান,গণমুক্তি ইউনিয়ন আহবায়ক
নাসিরুদ্দিন আহমেদ নাসু,পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অমল ত্রিপুরা ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্য কাজী ইকবাল।আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার।
আলোচনা সভায় ফয়জুল হাকিম বলেন,চাল ডাল আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি,বিদ্যুৎ খাতে লাগামহীন দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট অসহনীয় লোড শেডিং, জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিসহ উৎপাদন খাতে সৃষ্ট সংকট,ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধি,৫৩টি অত্যাবশকীয় ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি,ব্যাপক কর্মসংস্থানহীনতার কারণে সৃষ্ট নৈরাজ্য প্রভৃতি যখন সমগ্র জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে চলেছে তখন জনগণ হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসন ও নৈরাজ্যের অবসানে সংগ্রামে অংশ নিতে উন্মুখ হয়ে আছেন।এই সন্ধিক্ষণে জনগণের হাতে ক্ষমতা আনার সংগ্রামে, ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানে নেতৃত্ব দিতে বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
টিপু বিশ্বাস বলেন,পুরাতন কায়দায় জনগণকে শাসন করার ক্ষমতা এই শাসক শ্রেণী হারিয়েছে। হাসিনা সরকারের অধীনে তাই কোনো নির্বাচন জনগণ আর মেনে নেবে না।তত্বাবধায়ক বা তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনেও জনগণের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হবে না।জনগণের গণআন্দোলনকে তাই বিকশিত করতে হবে ও তাকে গণ অভ্যুত্থানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
হাসিবুর রহমান বলেন, শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া ভিন্ন পথ নেই। জনগণের হাতে ক্ষমতা আনার পথ জনগণের সরকার সংবিধান রাষ্ট্র কায়েমের পথ। সংস্কার দিয়ে কোনো কাজ হবে না।
নাসিরুদ্দিন আহমেদ নাসু বলেন,অতীতে উপমহাদেশে ক্ষমতা দখলের সংগ্রামে কমিউনিস্টরা গুরুত্ব দেয়নি।শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণকে তাই ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক সংগ্রামে যুক্ত হতে হবে।
অমল ত্রিপুরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জমির ওপর জাতিসত্তার জনগণের বংশপরাম্পরাগত অধিকারের স্বীকৃতির দাবী তুলে বলেন,পাহাড় ও সমতলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১ দফা নির্দেশনা প্রত্যাহারে সোচ্চার হতে হবে।
কাজী ইকবাল বলেন,জনগণের শক্তির উপর দাড়িয়েই ফ্যাসিবাদী শাসন উচ্ছেদের সংগ্রাম পরিচালনা করতে হবে।সাম্রাজ্যবাদী ভারত,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত করার সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।