ডেস্ক রিপোর্ট

২১ অক্টোবর ২০২২, ৫:২৩ অপরাহ্ণ

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায় নিতে হবে: ফখরুল

আপডেট টাইম : অক্টোবর ২১, ২০২২ ৫:২৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: দলের বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনরা ‘পিপলস ফোবিয়া’ রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায় নিতে হবে। জনস্রোত দেখে সরকার বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও বাধা দিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। বিএনপির কর্মসূচিতে সহযোগিতার নামে ক্ষমতাসীনদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যুতের লোডশেডিং, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। এসময় দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য আমির খসরু ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামীকাল (শনিবার) খুলনায় আমাদের বিভাগীয় সমাবেশ আছে। এই সমাবেশকে কেন্দ্রে করে সরকার এরই মধ্যে একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে খুলনায়। তারা পথে পথে নেতাকর্মীদের ও সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করছে। খুলনার সমাবেশে যেন বাধা সৃষ্টি করা না হয় তার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। যদি কোনো রকম সমস্যা তৈরি হয় তার সব দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সরকারকে নিতে হবে। এটা প্রমাণিত হবে যে, এই সরকার আসলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, আমাদের সভা-সমাবেশ তারা করতে দিতে চায় না।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, শুধু তাই নয়, গতকাল রাতে তারা আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যে বাসায় অবস্থান করছেন সেখানে পুলিশ রেইড করেছে এবং সেখান থেকে ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। আমি কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছি যে পথে পথে যাকে যেখানে পাওয়া যাবে তাকে সেখানে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল তারা রামদা, লাঠি-সোটা নিয়ে শোডাউন করেছে, মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। আমি এ গ্রেফতার ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করবার যে প্রচেষ্টা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ করছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতারদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

জ্বালানি তেল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভোলা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, যশোরের পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত এবং সারাদেশে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে শনিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে খুলনায় সোনালী ব্যাংক চত্বরে বিভাগীয় সমাবেশ হবে।

সমাবেশ উপলক্ষে শুক্রবার ও শনিবার গণপরিবহন ধর্মঘটের পেছনে সরকারের হাত রয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ সব গণপরিবহন তারা বন্ধ করে দিয়েছে। খবর পেয়েছি যে, ট্রেন, লঞ্চও বন্ধ করছে। কিন্তু এটাতে সাধারণ মানুষের যে জীবনযাত্রা তাকে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যাহত করছে। এখানে প্রমাণিত হয়েছে যে, সরকার চায় না মানুষ একটা গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের কথা, বক্তব্য, প্রতিবাদ প্রকাশ করুক। তারা একটা সংঘাতের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা সরকারকে এ রাস্তা থেকে ফিরে এসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, খুলনায় নিশ্চয়ই আপনাদের প্রতিনিধিরা আছেন, তাদের কাছ থেকে জানতে পারবেন। আজকের পত্র-পত্রিকায় রিপোর্ট আপনারাই করেছেন। প্রত্যেকটা পত্র-পত্রিকায় যে কীভাবে তারা একটা রেইন অব ট্রেরর সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এটা তারা ময়মনসিংহে করেছিল, চট্টগ্রামে করেছিল। বাট নাথিং ওয়াট। কারণ তো একটাই। সরকার জনভীতি রোগে ভোগে। এটা হচ্ছে পিপলস ফোবিয়া রোগ হয়েছে তাদের। মানুষ দেখলেই ভয় পায়। যে কারণে তারা নির্বাচনগুলো ওইভাবে করে যেন করে জনগণকে বাদ দিয়ে করা যায় সেই পদ্ধতিতে তারা নির্বাচন করছে। রাষ্ট্র চালাতে চায় তারা মানুষকে বাদ দিয়ে।

শেয়ার করুন