ডেস্ক রিপোর্ট

৯ অক্টোবর ২০২২, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

ইসি থেকে ডিসি-এসপিরা যেসব নির্দেশনা পেলেন

আপডেট টাইম : অক্টোবর ৯, ২০২২ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা। তারা কিছু বিষয়ে ইসির নির্দেশনাও চেয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও দলীয় কর্মীর মতো মনোভাব না দেখিয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদের দুটি আসনের চলমান উপ-নির্বাচন এবং জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এসব নির্দেশনা আসে। সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। সভায় সব জেলার ডিসি-এসপি ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন ও পুলিশের আইজিপির পক্ষে অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। করোনা পজিটিভ হওয়ায় আইজিপি এ সভায় উপস্থিত ছিলেন না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তিন ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে ২৫ জন ডিসি-এসপি বক্তব্য দেন।

সূত্রে জানা গেছে, মাঠ প্রশাসনের পরামর্শের মধ্যে ছিল— আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে বুথের সংখ্যা বাড়ানো, কেন্দ্র নির্ধারণে ডিসি, এসপি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা, গ্রামে ইভিএম ব্যবহার হলে ভোটারদের ভোট দিতে অসুবিধার কথা জানিয়ে শহরের আসনে এ মেশিনে ভোট নেওয়া এবং নির্বাচনে গণ্ডগোল হলে তা নিয়ন্ত্রণে কমান্ড কে করবে- তা নির্ধারণ করে দেওয়া। নির্বাচনে বরাদ্দ বাড়ানোরও দাবি জানান কয়েকজন ডিসি ও এসপি। মাঠ কর্মকর্তারা ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন বলেও কমিশনকে আশ্বস্ত করেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকের কার্যপত্রে চলমান ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নির্বাচনে সম্ভাব্য দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নির্বাচনি আইন ও বিধিমালা প্রতিপালনসহ ৬টি বিষয় আলোচ্যসূচি হিসেবে রাখা হয়। এতে মন্ত্রী, এমপিসহ সকলকে আচরণ বিধিমালা প্রতিপালনের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহার ও ইসির কর্মপরিকল্পনার সারসংক্ষেপ ডিসি-এসপিদের সামনে তুলে ধরা হয়।

নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আপনারা আচরণে এমন কোনও কিছু করবেন না যাতে সাধারণ জনগণ মনে করতে পারে আপনারা পক্ষপাতদুষ্ট, দল নিরপেক্ষ নন। আপনাদের অবশ্যই দল নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করতে হবে। আপনারা একইসঙ্গে সরকারি কর্মচারী ও গণকর্মচারী। গণকর্মচারী হিসেবে সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। কখনও নিজেদের দলীয় কর্মী ভাববেন না বা মনে করবেন না। আপনাদের আচরণে এমন কিছু যেন প্রতিফলিত না হয় যাতে জনগণ মনে করতে পারে আপনারা কোনও দলের পক্ষ হয়ে কাজ করছেন।

কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় ইসির অবস্থান থাকবে কঠোর। মাঠ কর্মকর্তাদের কাজও পর্যবেক্ষণ করা হবে। দায়িত্ব পালনে কোনও শৈথিল্য সহ্য করা হবে না। ইসি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগে কঠোর অবস্থানে থাকবে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম কমিশন পর্যবেক্ষণ করবে বলেও তিনি জানান।

এর আগে সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যের কেউ প্রভাব বিস্তার করলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে ডিসি-এসপিদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক প্রভাবশালী মহল বা রাজনৈতিক দলের নেতা, সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, এমপিসহ নানা মানুষ এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচনের সময় পেশিশক্তি, অর্থশক্তি ও ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা করে। কালো টাকার ব্যবহারের কথাও শোনা যায়। আপনারা চোখ-কান খোলা রেখে এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন। কোনও গুজবের সন্ধান পেলে বা এরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত গুজব সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। সোশাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ায় কী না- তা মনিটরিং করবেন। নির্বাচনে নীতিমালা অনুযায়ী খবর সংগ্রহে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে সহায়তার নির্দেশ দেন তিনি।

হাবিব খান বলেন, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অযথা হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে সকলকে স্বচ্ছ মনোভাব দেখাতে হবে।

বৈঠকে আরও যা আলোচনা
বৈঠক সূত্র জানায়, একটি জেলার পুলিশ সুপার নির্বাচনে পথসভার স্থান নির্দিষ্টি করার প্রস্তাব দেন। বরিশাল অঞ্চলের এক ডিসি মাদ্রাসায় ভোটকেন্দ্র স্থাপন না করার পরামর্শ দেন। কয়েকজন ডিসি ও এসপি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়ার নির্দেশনা চান। গণ্ডগোল হলে সমন্বিত অ্যাকশন নিতে কার কমান্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলবে তা নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেন।

কয়েকজন ডিসি ও এসপি বলেন, গ্রামাঞ্চলে মানুষ ইভিএমে ভোট দিতে অভ্যস্ত নয়। তাদের মধ্যে এ মেশিন নিয়ে আগ্রহ কম। অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। এ মেশিনে ভোট নেওয়ার আগে ব্যাপক প্রচারণার প্রস্তাব দেন তারা।

জানা গেছে, নিজের বক্তব্য দিতে গিয়ে শুরুতেই হতাশা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা গতানুগতিক। তারা শুধু নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে বলেছেন। এখন জেলা পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় এই নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ আসছে। কিন্তু এসব বিষয়ে ডিসি–এসপিদের কেউ কথা বলেননি। তিনি বলেন, অভিযোগ আছে, কর্মকর্তারা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে মিশে কাজ করেন। অংশীজনদের সঙ্গে ইসির সংলাপেও কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ এসেছে। কর্মকর্তারা কি নখদন্তহীন হয়ে পড়েছেন—এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

শেয়ার করুন