ডেস্ক রিপোর্ট
২৩ আগস্ট ২০২২, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সুনামগঞ্জের নেয়ামতপুর-আনোয়ারপুর সড়কের একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন লোকজন। ধসে পড়া স্থানে গভীর খাদের সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে পুরো সেতুটি। বৃষ্টি হলে সংযোগ সড়কের বাকি অংশ ধসে পড়ে যেকোনো সময় বিচ্ছিন হয়ে যেতে পারে সড়ক যোগাযোগ। এতে ভোগান্তিতে পড়বেন দুই উপজেলার মানুষ।
সুনামগঞ্জে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ দুই মাস আগে এখানে ৪৩ লাখ টাকার সংস্কারকাজ করলেও সেই কাজ এক মাসও টিকেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নেয়ামতপুর এলাকা থেকে একটি সড়ক গেছে আনোয়ারপুর হয়ে তাহিরপুর উপজেলায়। ওই সড়ক দিয়ে নেয়ামতপুর হয়ে জেলা সদর থেকে তাহিরপুর উপজেলায় যাতায়াত করা যায়। এ ছাড়া বিশ্বম্ভরপুরের ফতেপুর ইউনিয়নের লোকজন উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন একই সড়ক দিয়ে। আবার সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের লোকজনও সহজে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরে যাতায়াত করেন এই সড়ক দিয়ে। এতে সময় কম লাগে। নেয়ামতপুর-আনোয়ারপুর সড়কের ফতেপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের পাশে একটি পাকা সেতু আছে। ওই সেতুর দক্ষিণ দিকের সংযোগ সড়কে ছয় মাস আগে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর এলাকাবাসী সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করেন। পরে গত মে মাসে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সওজ বিভাগ। তখন জিও ব্যাগ ফেলা হয় ভাঙনের স্থানে। ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এই সংস্কারকাজ চলার সময় জুন মাসের মাঝমাঝি সময়ে সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার সময়েও এটি আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি সংযোগ সড়কের বেশির ভাগ অংশ ধসে পড়ে বড় গর্ত হয়ে গেছে। তাই ঝুঁকির কারণে মোটরসাইকেল ছাড়া আর কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। মানুষজনও ভয়ে ওই স্থানটি পার হন।
সেতুর পাশের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুন নূর জানান, এখানে ছয় মাস আগে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রথমে ভাঙন ছোট ছিল। পরে পাশের সজনার হাওরের ঢেউয়ে একপর্যায়ে ভাঙন বাড়তে থাকে। মাঝখানে ভাঙনরোধে কাজ হলেও সেই কাজ এক মাসও টেকেনি। এখন যেকোনো সময় সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘যখন বস্তা ভইরা মাটি ফেলা হয়, তখনই আমরা বলছিলাম, এতে কাজ হবে না। দুই পাশে শক্ত ওয়াল দিতে অইব। আমাদের কথা কেউ শুনেনি। তাড়াহুড়া করে কাজ হয়েছে। এখন পুরো টাকাই পানিতে গেল। কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’
ওই সড়কের অটোরিকশাচালক মাসুক মিয়া বলেন, ‘আমার ভয়ে ওই স্থানে গাড়ি তুলি না। মানুষজন হেঁটে পারাপার হন। পুরোটা ভেঙে গেলে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।’
ফতেপুর ইউপির চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ জানান, সংযোগ সড়ক ধসের বিষয়টি তিনি বারবার সওজ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। এ নিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) সংসদ সদস্য পীর ফজলুল রহমান মিসবাহ একাধিকবার সওজের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু যে কাজ হলো, তাতে কোনো উপকার হয়নি।
ফারুক আহমদ বলেন, এই সড়ক দিয়ে দুটি উপজেলার মানুষ যাতায়াত করেন। সংযোগ সড়কের দুই পাশে যে গর্ত হয়েছে, তাতে মানুষই যাতায়াত করতে ভয় পাচ্ছেন। যেকোনো সময় সংযোগ সড়কের পুরোটা ধসে গিয়ে সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
সওজ বিভাগের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক ধসের স্থানটি গভীর হওয়ায় তাঁরা সেখানে বেইলি শেড দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখবেন। এখন যে অবস্থা, তাতে আর বস্তা ফেলে কাজ হবে না। পানি কমলে চলতি বছরের শেষ দিকে আরসিসি পাইলিং করে তখন টেকসই কাজ হবে।