ডেস্ক রিপোর্ট
২২ আগস্ট ২০২২, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের নেতৃত্বে আজ ২১ আগস্ট রবিবার বিকাল ৪টায় ফুলছড়ি উপজেলা চত্বর কালিরবাজারে একুশে আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ফুলছড়ি উপজেলা শাখার ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আরোও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ নেতা শের সম্রাট খান, সংগঠনের গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি নিজাম উদ্দিন খান আরমান, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান লিয়ন, ফুলছড়ি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীবৃন্দ।
বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে গাইবান্ধা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আল মামুন বলেন, “একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির দোসর বিএনপি-জামাত জোট সরকার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যা করে এদেশকে নেতৃত্ব শূন্য করতে চেয়েছিল। ২৪ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী শহীদ হোন এবং তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। একুশে আগস্টে ব্যবহৃত আর্জেস-৮৪ গ্রেনেড, এটি অস্ট্রিয়ার লাইসেন্সের ভিত্তিতে পাকিস্তানে তৈরি হয়। এ উপমহাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ছাড়া কেউ এ গ্রেনেড ব্যবহার হয় না। এই আর্জেস-৮৪ গ্রেনেড ভারতে লস্করে তৈয়বা কর্তৃক ১৯৯৩ সালে মুম্বাই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল। একই গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় সিলেট হামলায় ও শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে। আবার সেই একই গ্রেনেড ব্যবহৃত হয় ২০০৪ সালের একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলায়। এসবে পরিস্কার হয়ে যায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী এদেশে ফেলে যাওয়া তাদের আল-বদর, আল-সামস বাহিনীকে সবসময় সক্রিয় রেখেছে এবং তাদের দ্বারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপর যে কোন প্রতিশোধ নেয়ার ষড়যন্ত্র এখনো চলমান রয়েছে।
মামুন বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে কে মারবে? বিদেশী দেশগুলোর কাছ থেকে সহানুভূতি নেওয়ার জন্যই নিজেরা নিজেদের উপর এই ঘটনা ঘটিয়েছে!ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা নিজেই! খালেদা জিয়ার মিথ্যাচার সেদিন এদেশের জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিদেশে পলাতক খুনী তারেক কর্তৃক জজ মিয়া নাটক এখনো জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। দুর্নীতির বরপুত্র তারেককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তরুণ প্রজন্মকে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যেকোন মূল্যে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
এছাড়াও ১৭ আগস্টের বোমা হামলার মাস্টারমাইন্ড বিএনপি। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাড়া দেশের ৬৩ জেলার ৫০০ স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছিল জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এতে দুজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। একযোগে বোমা হামলার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি ও জনবল একদিনে জোগাড় করা হয়নি। তৎকালীন সরকার নীরব ছিল কেন? নিশ্চয় তারা এই ঘটনার আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতা ও পৃষ্ঠপোষক। তারা এটা করেছিল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। মুক্তচিন্তাকে নিশ্চিহ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দেওয়ার জন্য। তাদের কাছে রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা কখনোই নিরাপদ ছিল না। এখনো নেই। এদেরকে রুখে দিতে হবে।”