ডেস্ক রিপোর্ট

১০ আগস্ট ২০২২, ৪:৪০ অপরাহ্ণ

‘ল্যাঙ্গিয়া’ ভাইরাস আতঙ্কে চীন

আপডেট টাইম : আগস্ট ১০, ২০২২ ৪:৪০ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বিশ্বজুড়ে এখনও কমেনি করোনা ভাইরাসের দাপট। তার মধ্যেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ। এবার দোসর হিসেবে মাথাচাড়া দিল আরও এক নতুন ভাইরাস। যা সর্বপ্রথম থাবা বসিয়েছে চীনে। এই ল্যাঙ্গিয়া হেনিপাভাইরাসে দেশটিতে ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। করোনা ভাইরাসও চীন থেকেই ছড়িয়েছিল।

জানা গিয়েছে, চীনের হেনান এবং শানডং প্রদেশের বাসিন্দাদের শরীরে থাবা বসিয়েছে এই ভাইরাস। পশুর দেহ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় ভাইরাসটি। তাইওয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল জানিয়েছে, চীনের দুই প্রদেশে মোট ৩৫ জন ল্যাঙ্গিয়া হেনিপাভাইরাসে আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। যাদের মধ্যে ২৬ জনই শুধুমাত্র ল্যাঙ্গিয়ায় সংক্রমিত।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাসের মতোই এই হেনিপাভাইরাস বাদুরের থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, খাবার, পানীয় জল কিংবা পরিবেশের মাধ্যমে অন্য প্রাণীর থেকে মানুষের দেহে ছড়াতে পারে এই হেনিপাভাইরাস।

এর উপসর্গ কী? গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে রোগীর শরীরে জ্বর, ক্লান্তি, সর্দি-কাশি, ক্ষুধা না পাওয়া, পেশীতে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। আরও চিন্তার বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনও ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। এই রোগের কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতিও নেই। শারীরিক সমস্যা দূর করতে স্বাভাবিক যে চিকিৎসা করা হয়, সেভাবেই আপাতত রোগীদের শুশ্রুষা করা হচ্ছে।

তবে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার কার্যত নেই বললেই চলে।

গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে তিন-চতুর্থাংশ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে এই ভাইরাসটি। তবে এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও ক্ষেত্রেই ল্যাংয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটেনি কারও। বেশিরভাগ রোগীরই উপসর্গ মৃদু। রোগীদের মধ্যে ফ্লু-এর মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বেজিং ইনস্টিটিউট অফ মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড এপিডেমিওলজির গবেষকরা বলছেন, এই ভাইরাসের ক্ষেত্রে মূল উপসর্গ জ্বর। তাছাড়া কাশি, ক্লান্তি, পেশীতে ব্যথা, বমির মতো উপসর্গও লক্ষ্য করা গিয়েছে আক্রান্তদের মধ্যে।

মারাত্মক নিপাহ ভাইরাসের পরিবারেরই সদস্য এই ল্যাংয়া ভাইরাস। নিপাহ ভাইরাস করোনার থেকে বেশি মারাত্মক। কারণ আক্রান্তদের তিন-চতুর্থাংশ প্রাণ হারান। বিশ্বের পরবর্তি অতিমারির কারণ হতে পারে এই নিপাহ ভাইরাস।

শেয়ার করুন