ডেস্ক রিপোর্ট
৩ আগস্ট ২০২২, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলমগীর হোসেন দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হাবিব সাঈদ আজ ৩ আগস্ট সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে ইউরিয়া সারের কেজি প্রতি ৬ টাকা মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং কৃষক-কৃষি ও দেশবাসীর খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, “সরকার যুক্তি দেখাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষক পর্যায়ে সারের যৌক্তিক ব্যবহার উৎসাহিত করার জন্য সারের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো জিনিসের দাম বৃদ্ধি করতে সরকার সবসময় আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দেয়। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম কম ছিল, তখন কিন্তু দেশের বাজারে দাম কম রাখা হয়নি। সরকার প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেসরকারী বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা ও ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। তাহলে জনগুরুত্বসম্পন্ন কৃষি খাতে সার বাবদ প্রদত্ত ভর্তুকি কেন অব্যাহত রাখা যাবে না? সাম্প্রতিক বন্যা-অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বছর বছর ফসলের লাভজনক মূল্য না পেয়ে বিপর্যস্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীকে যেখানে বিনামূল্যে সার-বীজ-ডিজেল-আর্থিক প্রণোদনা দেয়া দরকার, সেখানে সারের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে এসেছে। অন্যদিকে কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ছিটায় জমিতে, এজন্য সারের ব্যবহার কমাতে দাম বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। তাহলে সরকার নিয়োজিত ওয়ার্র্ডভিত্তিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভূমিকা কি কৃষককে সচেতন করার ক্ষেত্রে?”
বিবৃতিতে তাঁরা আরো বলেন, “দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে কৃষির জন্য বিগত বছরগুলোর জাতীয় বাজেট ছিল হতাশাজনক। এবারের বাজেটে কৃষিখাতে প্রায় ১০ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে যা মোট বাজেটের ৪.১২% মাত্র। দেশের জনসংখ্যা স্বাধীনতা-পরবর্তীকালের ৭ কোটি থেকে বর্তমানে সাড়ে ১৬ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। এ বিপুল সংখ্যক জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা প্রদানে কৃষি খাত ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। তাহলে বাজেটে কেন কৃষকের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকবে না? কৃষকের পৃষ্ঠপোষকতা না করে বরং সারের দাম বৃদ্ধি করা হলো। হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে সরকার কিছু বলে না। অথচ কৃষকের পাঁচ হাজার টাকা ঋণ আদায়ের জন্য তাকে কোমরে দড়ি বেঁধে থানায় আনা হয়। করোনাকে মোকাবেলা করে গত বছরগুলোতে খাদ্যশস্যের উৎপাদন করে কৃষকই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তাই কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারী প্রণোদনার ব্যবস্থা করা সময়ের দাবি। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও কৃষি-কৃষককে বাঁচাতে সারের দাম বৃদ্ধি নয়, কৃষককে প্রণোদনা ও কৃষিখাতে ভর্তুকি বাড়াতে হবে।”