ডেস্ক রিপোর্ট
৩১ জুলাই ২০২২, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: মোসাদ্দেক হোসেনের বিধ্বংসী বোলিংয়ের পরও জিম্বাবুয়েকে অলআউট করানো গেলো না। উল্টো লড়াকু স্কোরই দাঁড় করিয়েছে তারা বাংলাদেশের সামনে। জিততে হলে ১৩৬ রান করতে হবে টাইগারদের।
প্রথম ম্যাচের তুলনায় এই রান অনেক কম। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে করেছিলো ২০৫ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৮৮ রানে থেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আজ নুরুল হাসান সোহানদের করতে হবে ১৩৬ রান। তবে, উইকেটের কথা বিবেচনা করলে ১৩৬ রানও অনেক বড় হয়ে উঠতে পারে টাইগারদের জন্য।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দ্রুত উইকেট হারালেও সিকান্দার রাজার ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।
মোসাদ্দেক হোসেন টানা ৪ ওভার বোলিং করে ফেলেন। ২০ রান দিয়ে উইকেট নিলেন ৫টি। জিম্বাবুয়ের হয়ে একাই লড়াই করলেন সিকান্দার রাজা। ৫৩ বলে ৬২ রান করেন তিনি। আগের ম্যাচে ২৬ বলে করেছিলেন অপরাজিত ৬৫ রান। রায়ান বার্ল করেন ৩২ রান।
প্রথম ম্যাচে ১৭ রানে হার। জিম্বাবুয়ের কাছে এই পরাজয়ের পর অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে, একাদশ বাছাই করা নিয়ে।
টানা দ্বিতীয় দিনে দ্বিতীয় ম্যাচ। এবার দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামলো নুরুল হাসান সোহানের বাংলাদেশ দল। যথারীতি ৩ পেসার। তাসকিন আহমেদকে বাদ দিয়ে নামানো হলো হাসান মাহমুদকে। নাসুম আহমেদকে বাদ দিয়ে নেয়া হলো স্পিনার শেখ মাহদি হাসানকে।
দ্বিতীয় ম্যাচেও টস হার এবং প্রথমে ফিল্ডিং। তবে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান এবার আর পেসার দিয়ে আক্রমণ শুরু করলেন না। নিয়ে আসলেন স্পিনার। তাও নিয়মিত স্পিনার মাহদি হাসানকে নয়, মোসাদ্দেকের হাতে তুলে দিলেন বল।
বল হাতে নিয়েই জিম্বাবুইয়ানদের ওপর চড়াও হলেন মোসাদ্দেক। তার করা প্রথম ওভারেই দুই ব্যাটারকে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার রেগিস চাকাভাকে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মোসাদ্দেক।
ওভারের শেষ বলে কভার পয়েন্টে মাহদি হাসানের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন ওয়েসলি মাধভিরেকে। প্রথম ম্যাচে এই মাধভিরেই ৬৭ রান করে বাংলাদেশের পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। ৫ রানের মাথায় পড়ে দ্বিতীয় উইকেট।
মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিজাল থেকে মুক্তি মিলছে না জিম্বাবুয়ের। দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে আবারও আঘাত হানলেন তিনি জিম্বাবুয়ের ওপর। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে মোসাদ্দেকের বলে উইকেট হারালেন জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ওপেনার এবং অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকে। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে প্রথম স্লিপে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন আরভিন। ৬ রানে বিদায় নিল তিনজন ব্যাটার।
ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বল করতে এসে শন উইলিয়ামসকে রিটার্ন ক্যাচে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন মোসাদ্দেক। ৭ বলে ৮ রান করে আউট হলেন উইলিয়াম।
এরপর সপ্তম ওভারে বল করতে এসে আবারও উইকেট নিলেন তিনি। এবার প্যাভিলিয়নের পথ ধরালেন মিল্টন সুম্বাকে। ওভারের ৫ম বলে সুইপ শট খেলতে গেলেন সুম্বা। কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরলেন হাসান মাহমুদ। সে সঙ্গে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট শিকারী হয়ে গেলেন মোসাদ্দেক।
তবে মোসাদ্দেকের ঘূর্ণির পর ব্যাট হাতে জিম্বাবুয়েকে লড়াকু ইনিংস গড়তে সাহায্য করেন সিকান্দার রাজা। প্রথম ম্যাচেও বিধ্বংসী ব্যাটিং করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা তার বেশ পরিচিত। বিপিএল-ডিপিএল খেলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়, বিশেষ করে বোলারদের প্রায় মুখস্ত করে ফেলেছেন। যে কারণে প্রথম ম্যাচের মত দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাট হাতে লড়াই করছেন তিনি।
প্রথম ম্যাচে ২৬ বলে করেছিলেন অপরাজিত ৬৫ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে মোসাদ্দেক হোসেন যখন একদিকে ধ্বংসলীলা চালিয়েছেন, অন্যদিকে ব্যাট হাতে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সিকান্দার রাজা। শুধু দাঁড়িয়েছিলেন বললে ভুল বলা হবে। একার হাতে লড়াই চালিয়েছেন। পূরণ করে ফেলেন হাফ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত তিনি আউট হয়েছেন ৫৩ বলে ৬২ রান করে। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ২টি ছক্কারে মার মেরে আউট হন মোস্তাফিজের বলে।
রায়ার্ন বার্ল ৩১ বরেল ৩২ রান করে সিকান্দার রাজার সঙ্গে ভালোই জুটি গড়েন। ৫ উইকেটে ৩১ থেকে ১১১ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান এই দু’জন। গড়ে তোলেন ৮০ রানের দারুণ একটি জুটি। শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বলে ৩১ বলে ৩২ রান করা রায়ান বার্ল বোল্ড হলে এই জুটি বিচ্ছিন্ন হয়।
লুক জংউই ৫ বলে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা হলেন রানআউট।