ডেস্ক রিপোর্ট

২২ জুলাই ২০২২, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ও দূর্নীতির জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : জুলাই ২২, ২০২২ ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে লুটপাট নীতি ও দূর্নীতির জন্য দায়ীদের শাস্তি,গ্যাস অনুসন্ধানসহ স্বনির্ভর,পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই’২২) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তেল- গ্যাস- খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ- বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির চট্টগ্রাম জেলা আহবায়ক কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির চট্টগ্রাম জেলা সদস্যসচিব প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার,গণমুক্তি ইউনিয়ন জেলা সভাপতি রাজা মিঞা,সিপিবি জেলা সভাপতি অশোক সাহা,গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়কারী হাসান মারূফ রুমি,বাসদ(মার্কসবাদী) জেলা সদস্যসচিব শফি উদ্দিন কবির আবিদ,বাসদ জেলা ইনচার্জ আল কাদেরি জয়।সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ(মার্কসবাদী) জেলা সদস্য জাহেদুন্নবী কনক।

সমাবেশে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন,‘‘দেশের স্বার্থ বিবেচনা না করে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির উপর বিদ্যুৎ উৎপাদনকে নির্ভরশীল করে ফেলায়,আজ দেশ জুড়ে এ বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে।যা অনিবার্য ছিলনা,আমদানি নির্ভরতার বিকল্প আমাদের দেশেই ছিল।আমরা জাতীয় কমিটির পক্ষ হতে বলেছিলাম,স্থল ও সাগরবক্ষ থেকে দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সকে কাজে লাগিয়ে গ্যাস উত্তোলনের জন্য বিনিয়োগ ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।অথচ সরকার সে উদ্যোগ না নিয়ে,বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির পথেই গেলো।বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে বসিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।অথচ আমদানিনির্ভরতা কমানোর জন্য গ্যাস উৎপাদনে জাতীয় সক্ষমতা তৈরির প্রশ্নে সরকারের বরাদ্দ নেই।এখনই যদি সরকার এ ধরণের ভ্রান্ত পথ থেকে সরে না আসে,তাহলে ভবিষ্যতে আরো বড় বিপর্যয় ঘটবে।’’

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত আওয়ামীলীগ সরকারের লুটপাট ও দূর্নীতিতে বিপর্যস্ত।চাহিদা না থাকলেও একের পর এক বেসরকারী বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।গত ১০ বছরে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ৭০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।এ খাতে লাগামছাড়া যে দূর্নীতি হয়েছে,তা থেকে তাদের বাঁচাতে দায়মুক্তি আইন করা হয়েছে।২০১২ ও ২০১৪ সালে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা মীমাংসা হলেও,সাগরে বিশাল গ্যাসসম্পদ উত্তোলনে সরকার আজ পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়নি।ভোলা,সিলেটের জকিগঞ্জের আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনে কোন উদ্যোগ নেই।উল্টো পরিকল্পিতভাবে গ্যাস শেষ হয়ে যাবে এ প্রচার করে, বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি ক্রমাগত বাড়ানো হয়েছে।এলএনজি ব্যবসায়ীদের লুটপাটের স্বার্থেই সরকার এ পথ নিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা অবিলম্বে আজকের এ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ও বিদ্যুৎখাতে লুটপাটকারীদের শাস্তি এবং অবিলম্বে সাগর ও স্থলভাগে বাপেক্সের মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলনে বিনিয়োগ ও দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ,নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান,পরিত্যক্ত কূপগুলো মেরামত করে অবশিষ্ট গ্যাস উত্তোলন,রেন্টাল- কুইক রেন্টাল সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি বাতিল করার জোর দাবি জানাই।

এ দাবিতে জনগণকে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানাই।’’

শেয়ার করুন