ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ মে ২০২২, ৭:০০ অপরাহ্ণ

মোমিনছড়া চা বাগান খুলে দেওয়ার দাবি চা শ্রমিক ফেডারেশনের

আপডেট টাইম : মে ২৮, ২০২২ ৭:০০ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অবিলম্বে মোমিনছড়া চা বাগান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মোমিন ছড়া চা বাগানের মালিক পক্ষ গত ২৫মে সন্ধ্যায় বাগান বন্ধ ঘোষণা করায় বাগানের শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। নেতৃবৃন্দ মোমিনছড়া চা বাগান নিয়ে সিলেট আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এর ভূমিকার সমালোচনা করে শ্রমিক বিরুদ্ধী রহস্য জনক ভূমিকার জন্য উপ-পরিচালকের বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা আবু জাফর ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষ শনিবার, ২৮ মে
মোমিনছড়া চা বাগান পরির্দশনে গিয়ে এই দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অযৌক্তিকভাবে, হীন উদ্দেশ্যে মালিক পক্ষের বাগান বন্ধ ঘোষণা করা চা শিল্প ধ্বংস ও বাগানে কর্মরত প্রায় ১২০০ শ্রমিকদের মানবেতর জীবন-যাপনের দিকে ঠেলে দেয়ার সামিল। বর্তমান মালিক পক্ষের ব্যবস্থাপনায় বাগান পরিচালিত হওয়ার পূর্বে বাগানের নিরিখ ছিল ২০ কেজি। আজ থেকে ৩৩ বছর পূর্বে বর্তমান মালিক পক্ষ বাগান পরিচালনার শুরুতে শ্রমিকদের কাছ চেয়ে শুধু ১বছরের জন্য ২০কেজির পরিবর্তে ২৫কেজি নিরিখ নির্ধারণ করেছিলেন। প্রতিশ্রæতি ছিল শুধু শুরুর ১ বছর ২৫ কেজি নিরিখ হবে, পরবর্তী বছর থেকে পূর্বের ২০ কেজি নিরিখ হবে। আজ অবধি ২৫ কেজি নিরিখেই চলছে, আর কমানো হয়নি। দীর্ঘ ৩৩বছর ধরে ২৫কেজি নিরিখের নামে চলছে তীব্রশ্রম শোষণ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের জানামতে কোন বাগানের নিরিখ বর্তমানে ২৫ কেজি নয়। ২৫কেজি নিরিখের নামে শ্রম শোষণ, শ্রম আইনে বা বিধিতে উল্লেখিত বিষয়গুলো যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন না করা বাগানের শ্রম অসন্তোষের প্রধান কারণ। শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সিলেট আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এর ভূমিকা ছিল রহস্য জনক। তিনি স্পষ্টত শ্রম আইন পরিপন্থী ভুমিকা পালন করছেন। উপ-পরিচালক শ্রম আইনের আলোকে যথাযথ ভুমিকা নিলে বিষয়টি পূর্বেই সমাধান করা সম্ভব ছিল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাগানে চা পাতা উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত থাকে মহিলা শ্রমিক। বর্তমানে ২৫ কেজি নিরিখ পূর্ণ করতে না পারায় দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি থেকে মহিলা শ্রমিকদের মজুরি কর্তন করা হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শ্রম অসন্তেষ নিরসনে ২০ কেজি নিরিখ নির্ধারণ করে চা শিল্প রক্ষায় চা বাগান খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

শেয়ার করুন