ডেস্ক রিপোর্ট

২৫ মে ২০২২, ৪:০৭ অপরাহ্ণ

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল সিলগালা, ৯ জনকে কারাদণ্ড

আপডেট টাইম : মে ২৫, ২০২২ ৪:০৭ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপন দেবনাথের উপস্থিতিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাম্মা লাবিয়া অর্ণব বেসরকারি হাসপাতালটি সিলগালা ও কারাদণ্ড দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে হাসপাতালটির সিকিউরিটি গার্ড হামিদুর রহমান ও আব্দুল করিমকে এক মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫ দিনের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হাসপাতালের মার্কেটিংয়ের সাথে জড়িত পারভীন আক্তার, ফাতেমা আক্তার, সুমি আক্তার, শিল্পী আক্তার ও সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নজরুল ইসলাম স্বপনের স্ত্রী মান্ন তানিয়া।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোববার অস্ত্রোপচারে উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের টাকিমারা গ্রামের মুখলেছ মিয়ার স্ত্রী সাবিনা নামে এক প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা.ফারহানা নবিকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ডা. ফারহানা নবি বলেন, ইতোমধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করেছি। প্রাথমিক তদন্তকালে সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নজরুল ইসলাম স্বপনের কাছে তার প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিলাম। তিনি তা দেখাতে পারেননি। সরকারি কাগজে কলমে সিংগাইরে সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে কোনো হাসপাতাল নাই। যিনি প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি কোনো ডিগ্রিধারি চিকিৎসক নন। এমনকি যে ডাক্তার অজ্ঞান করেছেন তারও কোনো ডিগ্রি নাই।

উল্লেখ্য, প্রসূতি সাবিনা আক্তারের প্রসব বেদনা উঠলে গত শনিবার রাত ১১টার দিকে তাকে সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। রাত ৩ টার দিকে তার অস্ত্রোপচার করেন গাইনি ডা. ইমা বিনতে ইউনুছ। সাবিনা আক্তার একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। সাবিনার পরিবারের অভিযোগ, ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে মাত্রারিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেই তার মৃত্যু হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মৃত অবস্থায় সাবিনাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার জন্য জোর তৎপরতা শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে প্রসূতির স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় দেন দরবার হয়। এক পর্যায়ে দুই লাখ টাকায় রফা হয়। কিন্তু প্রসূতির মা-বাবা ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের মধ্যে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা বাধে। এই কারণে সমঝোতার বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের এক স্বজন।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাম্মা লাবিয়া অর্ণব বলেন, সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে এর কোন সরকারি নিবন্ধন পাওয়া যায়নি।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক আরও জানান, একজন ডাক্তার ও ৫ জন নার্স রয়েছে ওই হাসপাতালটিতে। অভিযান চলাকালে মালিক নজরুল ইসলাম পালিয়ে যান। হাসপাতালের সাথে জড়িত ৯জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটির কোন অনুমোদন না থাকায় তা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন