ডেস্ক রিপোর্ট

২৫ মে ২০২২, ১১:১২ অপরাহ্ণ

বোরো ধানের দাম মণ প্রতি ১২০০ টাকা করার দাবি কৃষক ফ্রন্টের

আপডেট টাইম : মে ২৫, ২০২২ ১১:১২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: বোরো ধানের দাম মণ প্রতি ১২০০ টাকা নির্ধারণ ও প্রতি ইউনিয়নে ১টি করে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকের কাছ থেকে কমপক্ষে ৫০ লাখ টন ধান ক্রয় করার দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ২৫ মে ২০২২ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের উদ্যোগে মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নিখিল দাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ ঢাকা নগরের সদস্যসচিব জুলফিকার আলী, শ্রমিক নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, নারী নেত্রী রুখশানা আফরোজ আশা, ছাত্রনেতা মুক্তা বাড়ৈ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রদীপ সরকার।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বোরো ধান কাটা মাড়াই মৌসুম চলছে। সরকার ধানের দাম মণ প্রতি ১০৮০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। আমরা উৎপাদন খরচের সাথে ৪০% বাড়তি যুক্ত করে ফসলের দাম নির্ধারণের দাবি করেছি। বোরো ধানের দাম কমপক্ষে ১২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে কৃষকের লোকসান হবে, কৃষক সর্বশান্ত হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার এ বছর মাত্র সাড়ে ৬ লাখ টন ধান, সাড়ে ১১ লাখ টন মোটা চাল ও ৫০ হাজার টন আতপ চাল ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছে। কৃষক ধান উৎপাদন করে, চাল নয়। ধান থেকে চাল তৈরি করে চাতাল ও মিল মালিক সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। অথচ সরকার ধান কিনবে কম, চাল কিনবে বেশি। এর মাধ্যমে সরকার কৃষকের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে মিল মালিক সিন্ডিকেট ব্যবাসীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। আবার দলীয়করণের কারণে সরকার নির্ধারিত দামেও কৃষক গুদামে ধান বিক্রি করতে পারে না। গুদাম কর্মকর্তারা ধান ভেজা, আদ্রতা বেশি একথা বলে কৃষককে হয়রানী করে। ইউনিয়ন-উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র না থাকায় গাড়ী ভাড়া দিয়ে জেলা শহরে ধান নিয়ে আসার পর যখন বিড়ম্বনা ও হয়রানীর শিকার হতে হয় তখন কৃষক ৬০০/ ৭০০ টাকায় বাজারে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। কৃষকের হয়রানী বন্ধের জন্যে আমরা প্রতি ইউনিয়নে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খোলার দাবি করেছি। আর প্রতি ইউনিয়নে একটি করে ক্রয়কেন্দ্র নির্মাণ বাবাদ ১ কোটি টাকা করে বাজেটে মাত্র ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সাড়ে ৬ লক্ষ কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা কোন ব্যাপারই নয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষি-কৃষক বাঁচাতে হলে ধানের দাম ১২০০ টাকা মণ নির্ধারণ ও প্রতিটি ইউনিয়নে কমপক্ষে ১টি করে ক্রয়কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা দরকার। সিন্ডিকেট যাতে চালসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে বাজার অস্থিতিশীল করে জনদুর্ভোগ বাড়াতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও খাদ্য পণ্যের মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমপক্ষে ৫০ লাখ টন ধান ক্রয় করা প্রয়োজন। আর খাদ্য শস্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য গুদাম-সাইলো নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তিন বছর পূর্বেই ২০০ সাইলো-গুদাম নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্ত হলেও আজও পর্যন্ত তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

এছাড়াও নেতৃবৃন্দ সারাদেশে ক্ষেতমজুরসহ ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জন্য আর্মি রেটে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে তোপখানা রোড, পুরানা পল্টন, বিজয়নগর ঘুরে সেগুনবাগিচা ভ্যানগার্ড কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

শেয়ার করুন