ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ মে ২০২২, ১১:২৫ অপরাহ্ণ

বাম জোট থেকে সাইফুল হক ও সাকির দলের সদস্য পদ স্থগিত

আপডেট টাইম : মে ২৪, ২০২২ ১১:২৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর মোর্চা বাম গণতান্ত্রিক জোট থেকে গণসংহতি আন্দোলন ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাম গণতান্ত্রিক জোটের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জোটের সমন্বয়ক আব্দুস সাত্তার বলেন, আজকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বৈঠক ছিল। বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়দ সাকিও উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজেরাও জানিয়েছন, এ জোটে আর থাকতে পারছেন না তারা। এ কারণে বাম জোট থেকে এই দুই দলের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জোটের সাবেক সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘বামজোট বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনের সদস্যপদ স্থগিত করেছে। তারা আলাদা জোট করতে চেয়েছে। দুইটা জায়গায় তো থাকা যাবে না।’

বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘সবাই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই একমত হয়েছে যে, তারা যেহেতু আরেকটি জোট প্রক্রিয়ায় আছে, তাহলে তারা একটাই করুক। তারা যদি ভালো কিছু করতে পারে, সেখানে থাকবে। আর যদি ফিরে আসে, তাহলে সদস্যপদ ফিরে পাবে। সে কারণে তাদের সদস্য পদ স্থগিত রাখা হয়েছে। জোটের বক্তব্য, বিবৃতিতে তাদের নাম এখন থেকে উল্লেখ করা হবে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জোট শরিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট তৈরি হয়েছিল। সে সব লক্ষ্যের মধ্যে ছিল– বর্তমান ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান ঘটানো, এর জন্য জনগণের ঐক্য গড়ে তোলা। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বিদলীয় বৃত্তের বাইরে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলা।

এটা বাদ দিয়ে কেউ অন্য মেরুতে যুক্ত হতে চাইলে বামজোটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।

সে কারণে দল দুটির বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আগামী দিনে দুঃশাসনবিরোধী লড়াইয়ে দৃঢ় ভূমিকা রাখার জন্য দলগুলোর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চান তারা।

সদস্যপদ স্থগিত হওয়া দল দুটির নেতারা জানিয়েছেন, সাতটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সমন্বয়ে খুব শিগগিরই নতুন একটি মঞ্চ গড়ে তুলছেন তাঁরা। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে এই দল দুটির নেতারা এরমধ্যে বৈঠক করেছেন।

জানতে চাইলে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দিন ধরেই বাম জোটের পাশাপাশি অপরাপর গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে কর্মসূচির ভিত্তিতে আরও একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছি। তারই প্রক্রিয়া হিসেবে কয়েকটি দলের সঙ্গে মঞ্চ গড়ে তোলার প্রাথমিক উদ্যোগের আলাপ আলোচনা শুরু করেছিলাম। বামজোটভুক্ত দলগুলোকেও আমরা সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। গণসংহতি আন্দোলন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ছাড়া বাকি দলগুলো বামজোটকে নিয়েই কাজ করতে আগ্রহী।

যেহেতু আমরা নতুন জোট করতে আগ্রহী, তাই বাম জোটকে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিলাম। তারা বাম গণতান্ত্রিক জোটে এই দুই দলের সদস্যপদ স্থগিত করেছে।’

জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে একটা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা যায়, সে জন্য তাঁদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ভাসানী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এ ৭টি দল ও সংগঠনের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই জোটের নাম রাখা হয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। এই জোটের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সাইফুল হক ও সাকির দলের সদস্য পদ বাম জোট থেকে স্থগিত করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১৮ জুলাই বাম গণতান্ত্রিক জোট গড়ে তোলা হয়েছিল। দুই দলের সদস্য পদ স্থগিত হওয়ায় এখন এই জোটে আছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন রয়েছে।

শেয়ার করুন