ডেস্ক রিপোর্ট

১৮ মে ২০২২, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

২০মে কে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে স্মারকলিপি পেশ

আপডেট টাইম : মে ১৮, ২০২২ ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

সিলেট প্রতিনিধি:: ২০ মে ঐতিহাসিক ‘মুল্লুকে চল’ আন্দোলনকে “চা শ্রমিক দিবস” হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করছে ‘চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ’।

আজ বুধবার, ১৮ মে সকাল ১১টায় শহীদ মিনারে সমাবেত হবে মিছিলসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। মিছিলের পূর্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সংগঠক অধীর বাউরী,রানা বাউরী, মোঃ হান্নান প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় “ চা শ্রমিকদের ঐতিহাসিক মুল্লুকে চল আন্দোলনের ১০১তম বর্ষ পূর্ণ হবে আগামী ২০মে। আজ থেকে ১০১ বছর পূর্বে ১৯২১ সালের ২০শে মে চাঁদপুরের মেঘনা ঘাটে বেনিয়া বৃটিশ সরকারের নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয় শত শত চা শ্রমিককে। বৃটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলনে সামিল হয়ে চা শ্রমিকরা বর্জন করেন ইংরেজ মালিকদের চা বাগান। বাগান ছাড়া যেহেতু যাবার আর জায়গা নেই তাই তাঁরা নিজের পূর্ব পুরুষের ভিটায় ফিরে যেতে চাইলেন। দীর্ঘপথ পায়ে হেটে তাঁরা পৌছান চাঁদপুরে। শ্রমিকদের বাগানে ফেরত আনার জন্য চালানো হয় গুলি। শত শত চা শ্রমিক মারা যান, গ্রেফতার করা হয় চা শ্রমিক নেতা পন্ডিত গঙ্গা দয়াল দীক্ষিত ও দেওশরনকে। জেলে অনশন করে আত্মাহুতি দেন পন্ডিত গঙ্গা দয়াল দীক্ষিত। চা শ্রমিকদের এই গৌরবদীপ্ত লড়াই পৃথিবীব্যাপী পরিচিত হয় “চরগুলা এক্সডাগস” নামে খ্যাত। এই হত্যাকান্ড গোটা ভারতবর্ষে আলোড়ন তৈরি করে। আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে শ্রমিকরা ধর্মঘটে সামিল হয়। এগিয়ে আসেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, হরদয়াল নাগ, কাজেম আলী মাষ্টার, বিপ্লবী মাষ্টারদা সূর্যসেন, মহিম ত্রিপুরা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

আন্দোলনের শুরু থেকে যুক্ত ছিলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেন । ঐতিহাসিক এই আন্দোলনটি চা শ্রমিকদের প্রথম সংগঠিত সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তির সংগ্রামেও অংশগ্রহণ করেন চা শ্রমিকরা। গণঅভূত্থানে শহীদ হন নীরা বাউরী, বসন্ত বুর্নাজাসহ অনেকে। পরবর্তীতে স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অত্যন্ত সাহসের সাথে লড়েছেন চা শ্রমিকরা। আর এ সকল আন্দোলন সংগ্রামে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে ২০মে ‘মুল্লুকে চল’ আন্দোলনের চেতনা। সাঁওতাল বিদ্রোহ, মুন্ডা বিদ্রোহ যেমন এক একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, একই রকম এই ‘মুল্লুকে চল আন্দোলন বর্তমান বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ চা শ্রমিক। চা দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে চা জনগোষ্ঠীর যেমন বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ আছে, একই ভাবে বর্তমানে দেশের অর্থনীতির চাকাকেও সচল রাখতে ভূমিকা নিচ্ছেন চা শ্রমিকরা। এ অবস্থায় ঐতিহাসিক ‘মুল্লুক’ চল আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং এই দিবসের ইতিহাসকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি চা শ্রমিকদের প্রাণের দাবি।

ঐতিহাসিক ‘মুল্লুক চল’ আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং এই দিবসের ইতিহাসকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে চা শ্রমিক শহীদদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দানে আমরা আপনার কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।”

শেয়ার করুন