ডেস্ক রিপোর্ট

৩ এপ্রিল ২০২২, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

‘টিপ পরছস কেন’- পুলিশ সদস্যের বিচার দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

আপডেট টাইম : এপ্রিল ৩, ২০২২ ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: টিপ পরায় রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি কলেজের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দারকে গালিগালাজ ও নির্যাতনকারী ‘পুলিশ সদস্যের’ বিচার দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আন্টিমেটাম দিয়েছে নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ।

রোববার (০৩ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে ওই পুলিশ সদস্যের বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে দেশের প্রগতিশীল নারী সংগঠনগুলো নিয়ে শাহবাগ এবং তেজগাঁও থানার সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের মতো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।

সাবেক ছাত্রনেতা আকরামুল হকের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক রবীন আহসান, গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক মাহফুজা হক নীলা, অ্যাডভোকেট জীবনানন্দ জয়ন্ত, গণসঙ্গীত শিল্পী শতাব্দী ভব, নারীপক্ষের সংগঠক মনীষা মজুমদার, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ৩০ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য। মেয়েরা টিপ পরলে দোষ, সাইকেল চালালে দোষ। মেয়েরা যা করবে তাই দোষ এ দেশে। এই দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ। কিন্তু আমরা ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান মানছি না।

তারা বলেন, একজন নারী শিক্ষককে টিপ পরার কারণে অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়া হয় এবং তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাকে গালি দেওয়া ও হত্যাচেষ্টা বাংলাদেশ আইনে স্পষ্ট অপরাধ। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এটা কোনো সভ্য দেশের পুলিশের আচরণ হতে পারে না।

এসময় তারা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় আমরা গণবিক্ষোভের আয়োজন করবো।

সভাপতির বক্তব্যে আকরামুল হক বলেন, এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। হেনস্তাকারীকে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। দাবি মানা না হলে আমরা তেজগাঁও কলেজের সামনে প্রতিবাদী অবস্থান করবো।

এর আগে শনিবার সকালে ওই শিক্ষিকা কলেজে যাওয়ার সময়ে রাজধানীর ফার্মগেটে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি তেজগাঁও সরকারি কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দারকে ‘টিপ পরছস কেন’ বলে নাজেহাল করেন। তার অভিযোগ, এসময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন ওই ব্যক্তি। এমনকি প্রতিবাদ করলে ওই ব্যক্তি তার উপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় ওইদিনই শেরেবাংলা নগর থানায় বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষিকা।

এদিকে খোদ ঢাকার সড়কে দিনে-দুপুরে নারীর সঙ্গে এই ধরনের আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন লোকজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পাশাপাশি রাস্তায়ও নেমেছেন নারীদের বিভিন্ন সংগঠন। প্রযুক্তির এই যুগে দীর্ঘ সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে না পারায় পুলিশের বিরুদ্ধেও সমালোচনা হচ্ছে।

শেয়ার করুন