ডেস্ক রিপোর্ট

২৫ মার্চ ২০২২, ৮:১৩ অপরাহ্ণ

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মাগুরায় বাসদের আলোর মিছিল

আপডেট টাইম : মার্চ ২৫, ২০২২ ৮:১৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

মাগুরা প্রতিনিধি:: ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ২৫ মার্চ ২০২২ বিকাল ৫টায় মাগুরা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী শম্পা বসু।

আলোচনা করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট মাগুরা জেলা সমন্বয়ক কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি মাগুরা জেলার সদস্য সচিব শরীফ তেহরান টুটুল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার সদস্য মোঃ সোহেল মুন্সী। সভা পরিচালনা করেন বাসদ মাগুরা জেলা শাখার সদস্য সচিব ভবতোষ বিশ্বাস জয় ।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন নাফিসা নাওয়ার নিঝুম, কেয়া বিশ্বাস, মৃধা ফারিয়া সিদ্দিকী চৈতি, পূর্ণিমা মন্ডল, পায়েল বিশ্বাস, তনুশ্রী আইচ, রিংকি বিশ্বাস। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, ৩০ লক্ষ মানুষের শহীদী আত্মদান, আড়াই লক্ষ মা-বোনের রক্ত লাল অশ্রুর বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের দেশের স্বাধীনতা। স্বাধীনতার ৫১ বছর পর দেশের মানুষ যদি স্বপ্ন আর বাস্তবতার হিসাব মেলাতে যায় তাহলে সেখানে বঞ্চনার চিত্র ফুটে উঠবে। স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল সাম্য, সামাজিক ন্যয়বিচার ও মানবিক মর্যাদার সমাজ প্রতিষ্ঠা; ধর্ম ভিত্তিক পাকিস্থান থেকে আমরা চেয়েছিলাম অসাম্প্রদায়িক ও শোষণহীন বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত চেতনাকে ভূলুন্ঠিত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল মৌলিক ও মানবিক অধিকারকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিনত করেছে। বেকারত্ব, শ্রমিক ছাটাই, কৃষকের হাহাকার, ধর্ষণ-নিপীড়ন, দুর্নীতি-দলীয়করণ,
পাহাড় সমান বৈষম্য আজ স্বাধীনতার গৌরবকে ম্লান করে দিয়েছে।

বক্তাগণ বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে ক্ষমতাসীনদের আপোষ হিসেবে পাঠ্যপুস্তক সাম্প্রদায়িকীকরণ, সাম্প্রদায়িক হামলা ও ভাস্কর্য ভাঙ্গার বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে জনগণের কণ্ঠরোধ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্তব্ধ করা হয়েছে। লেখক, সাংবাদিক, কার্টুনিস্টদের গ্রেফতার করে কারাগারে খুন পর্যন্ত চলছে আইনের নামে।

বক্তাগণ বলেন, করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৩ কোটি ৪২ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস চাল, ডাল, ভোজ্যতেলের দাম উত্তরোত্তর বেড়ে নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। প্রত্যেকটা নিত্যপণ্যেরই দাম বাড়ছে। সিলিন্ডার গ্যাসের দামও প্রতি মাসে বাড়ানো হচ্ছে। মানুষ আজকে দিশেহারা। এভাবে বিগত ৫১ বছরে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করেছে শাসক শ্রেণি। শাসকগোষ্ঠী ভুলিয়ে দিতে চায় স্বাধীনতার মৌল চেতনা। তার বিপরীতে আমরা বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাই স্বাধীনতার প্রকৃত শিক্ষা। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল যেমন একদিন লিখেছিলেন ‘মোরা আপনি মরে মরার দেশে আনবো বরাভয়’ সেই অক্ষয় বানীকে বুকে ধারণ করে পাকিস্তানীদের সামনে বুক চিতিয়ে বুলেট শুষে নিয়েছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। সেই সূর্য সন্তানদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন